পঞ্চগড়ে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, গ্রেফতার আতঙ্কে রাত হলেই পুরুষ শূণ্য গ্রাম

পঞ্চগড়ের ভজনপুরে পাথর শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ। এতে ৭৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জানুয়ারী) রাতে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের এসআই লুৎফর রহমান হত্যা মামলা ও এসআই শাহাদাত হোসেন সরকারি কাজে বাঁধা দান, পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের পৃথক মামলা করেন।

তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের একটি গোপন সূত্র মতে, গাড়ি ভাংচুরের মামলায় ৭৪ জনের নাম উল্লেখ আছে। তবে সংখ্যাটি বেশিও হতে পারে। এখন পর্যন্ত তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দেয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে অজ্ঞাতনামা ৫ হাজার জনকে আসামী করায় ভজনপুরে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় স্থানীয় বাজার ও পথে লোক চলাচল পূর্বের চেয়ে অনেক কমে গেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে রাতের বেলায় পুরুষরা বাসায় থাকছেন না। অনেক বাড়ির পুরুষরা আত্মীয়ের বাড়ি অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে গিয়ে রাত্রি যাপন করছেন।

তবে তেঁতুলিয়া-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভজনপুরে বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনকারী চক্রটি শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে মাঠে নামিয়েছেন।

এর আগে রোববার (২৬ জানুয়ারী) সকালে তেঁতুলিয়ার ভোজনপুর এলাকার পাথর শ্রমিকরা ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলনের দাবিতে তেঁতুলিয়া-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করলে পাথর শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পাথর নিক্ষেপসহ লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলাসহ পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ৮ পুলিশ, তিন র্যাব সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে জুমার উদ্দিন নামে এক শ্রমিক মারা যান। নিহত জুমার উদ্দিনের বাড়ি তেঁতুলিয়া উপজেলার ভোজনপুর ইউনিয়নের গনাগছ এলাকায়।

তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ভজনপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। নাম উল্লেখ করে মামলা করা হলেও আসামিদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনি প্রকাশ করছি না। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ১ জনকে আটক করা হয়েছে।। তবে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানি না হয় সে জন্য অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি