ফরিদপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলা, গ্রাম ছাড়া একটি পরিবার!

ফরিদপুরে ১৩ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করায় সন্ত্রাসীদের হুঁমকিতে গ্রাম ছাড়া হয়েছে একটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোড়াইল গ্রামে। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে তার মা ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের নিকট নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন।

লিখিত আবেদনে তিনি জানান, মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে তার মেয়েকে উত্যক্ত করতো একই এলাকার ওমর মাতুব্বরের ছেলে সিহাব (২০) । গত ২০ ডিসেম্বর সিহাব তার সহযোগী সোবাহান (৩৫), পিতা- নয়াব আলী ও খাব্বাব (৩০) পিতা- মৃত আনোয়ার কে নিয়ে তার বাড়িতে আসে। এসময় ওই কিশোরী বাড়িতে একা ছিল। তিনি পাশের বাড়ি গিয়েছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এসময় সিহাব তার মেয়েকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানী করে। তার সহযোগীরা ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছিলো। একপর্যায়ে সিহাব তার মেয়ের পড়নের কাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করে । মেয়ের চিৎকার শুনে এসময় তিনি পাশের বাড়ি হতে ছুটে আসেন ।

সোবহান ও খাব্বাব তাঁকে দেখে পালিয়ে যায়। ঘরে ঢুকে তিনি সিহাবকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এদিকে, কিছুক্ষণ পরে সোবহান ও খাব্বাব লাঠি হাতে এসে তাঁকে বেদম প্রহার করে। আর সিহাব এসময় মেয়েটিকেও আঘাত করে।

এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে আহতাবস্থায় নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। আর তার মেয়েকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তে ভর্তি করে। চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়।

এঘটনায় ২২ ডিসেম্বর নগরকান্দা থানায় মামলা করতে গেলে আদালতে মামলা করতে পরামর্শ দেয় থানা থেকে। এরপর ২৯ ডিসেম্বর ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে তিনি একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

আদালতে এ মামলা করার পর আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান। তাদের ভয়ে সপরিবারে তারা এখন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি