‘পরমাণু সমঝোতায় অগঠনমূলক পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেয়া হবে’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতায় সৃষ্ট বিরোধ নিরসনের কথিত উদ্যোগ ও হুমকিকে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্বল অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ইউরোপের তিনটি দেশ পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে যে অগঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে।

ইউরোপীয় তিন দেশ ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি গতকাল (মঙ্গলবার) ব্রাসেলসে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করে তেহরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের কথা ঘোষণা করেছে। ওই তিন দেশ বলেছে, ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় পরিপূর্ণভাবে ফিরে আসার জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ইরান কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তারা তেহরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করবে। ইউরোপের এ ঘোষণার বিরুদ্ধে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে এ বক্তব্য দিল। তবে একইসঙ্গে জার্মান, ব্রিটেন ও ফ্রান্স তাদের ভাষায় পরমাণু সমঝোতায় সৃষ্ট মতবিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে কথিত বিশেষ ব্যবস্থা সক্রিয় করার কাজ শুরু করার কথাও জানিয়েছে।

আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপ এ সংক্রান্ত যৌথ কমিশনের বৈঠকে এ সমঝোতা টিকিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত সে প্রতিশ্রুতি তারা বাস্তবায়ন করেনি। পরমাণু সমঝোতার ৩৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পরমাণু সমঝোতায় সইকারী দেশগুলোর কেউ যদি চুক্তি বাস্তবায়ন না করে তাহলে ইরানও বিষয়টি নিরসনে যৌথ কমিশনের বৈঠকে উত্থাপন করতে পারে। ঠিক একইভাবে ইরানও যদি প্রতিশ্রুতি পালন না করে তবে অন্য দেশগুলোও চাইলে একই পদক্ষেপ নিতে পারে।

এদিকে, ইউরোপ পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে ইরানকে ১৫ দিনের যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানোভ এক টুইটবার্তায় বলেছেন, ইউরোপের এ ধরণের সিদ্ধান্ত যেন পরিস্থিতিকে আগের চেয়ে আরো জটিল করে না তোলে।

আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান সব পক্ষের বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও ইউরোপ এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণে ইরানও পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি ইরান জানিয়ে দেয় প্রতিশ্রুতি স্থগিত রাখার পঞ্চম ও শেষ ধাপে তারা পরমাণু ক্ষেত্রে আর কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না। অর্থাৎ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, মজুদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে আর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। ইরান এও জানিয়ে দেয় এখন থেকে তাদের যতখানি প্রয়োজন ততখানি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে তবে আইএইএ’র সঙ্গেও সহযোগিতা বজায় রাখবে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তার দেশের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে তিন ইউরোপীয় দেশের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি আমেরিকাকে কুর্নিশ করে এই সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

যাইহোক, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নীতি নির্ধারকরা পরমাণু সমঝোতা রক্ষার কথা বললেও তাদের কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। ইরান বিরোধী বিবৃতি না দিয়ে তাদের উচিত পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়া।