শত শত শিশুর জন্ম দিয়ে রেখে গেছে শান্তিরক্ষী বাহিনী!

দুর্ভিক্ষপীড়িত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর নানা অনৈতিক কাজের অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরেই চলে আসছে। এসব বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে শান্তিরক্ষীদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পবিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকার দেশ হাইতিতে নারীদের নিপীড়ন করে শত শত শিশুর জন্ম দিয়ে রেখে গেছে শান্তিরক্ষী বাহিনী।

গবেষণায় অংশ নেয়া ২৬৫ নারী জানিয়েছেন, উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের সেনারা বেশি অপকর্মে জড়িত। তারা জানান, ১৩ দেশের সামরিক-বেসামরিক সদস্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কাজ করতে হাইতিতে এলেও যেসব দেশের নাগরিকরা হাইতির প্রাপ্তবয়স্ক-অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের গর্ভবতী করেছে, তাদের বেশিরভাগই উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের।

সাক্ষাৎকারে বেশিরভাগ নারী শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। তবে কিছু নারী স্বীকার করেছেন যে, তারা টাকার বিনিময়ে শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন। নিপীড়নের শিকার নারীর ভাষায়, ‘আপনার হাতে কিছু পয়সা দিয়ে তারা আপনার শরীরে বাচ্চা দিয়ে গেল।’

তবে ওই নারীরা তখনই মুখ খুলেছেন, যখন নিশ্চিত হয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য হাইতি ত্যাগ করেছেন।

বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষণাটি হয়েছে। গবেষণা করেছেন বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক সাবিনা লি ও অন্টারিওর কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সায়েন্টিস্ট সুসান বার্টেলস। এক একাডেমিক ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার এ গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়। যেটি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস।

গবেষণাটি করতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় থাকা হাইতির আড়াই হাজার নাগরিকের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। গবেষণায় হাইতিতে কাজ করা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের কিছু সামরিক-বেসামরিক সদস্যের অপকর্মের চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হাইতিতে থাকা শান্তিরক্ষীদের কাছে ১১ বছর বয়সী শিশুটিও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, গর্ভবতী হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অনেক নারীকে সন্তান প্রসবের পর একাই সন্তান লালনপালন করার দায়িত্ব নিতে হয়েছে।

দুই গবেষকের করা গবেষণায় বলা হয়েছে, হাইতিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ফরাসি ভাষায় সংক্ষিপ্ত আকারে ‘মিনুস্তা’ নামে পরিচিত। ‘ফেলে যাওয়া সন্তানরা’ সেখানে এখন ‘ছোট মিনুস্তা’ নামে পরিচিত।

গবেষণায় অংশ নেয়া এক নারী জানান, ‘আমি শান্তিরক্ষী বাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করি। তিনি আমাকে জানান, তিনি আমাকে ভালোবাসেন; এর পর আমি তার সঙ্গে মেলামেশা শুরু করি। তিন মাস পর আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। সেপ্টেম্বরে তাকে তার দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এর পরের গল্পটা আরও ভয়াবহ। ওই সন্তানকে লালনপালনের একক দায়িত্ব এখন ওই নারীর। ফি দিতে না পারায় দরিদ্র এ নারী এখন তার সন্তানকে স্কুলেই পাঠাতে পারছেন না।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লি বলেছেন, শান্তিরক্ষী মিশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলোরই এখন এই মা ও তার সন্তানদের দায়িত্ব নেয়া উচিত।