‘রাজাকার তালিকা সংশোধনের পর পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’

সদ্য প্রকাশিত রাজাকার তালিকা সংশোধনের পর পুনরায় প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

গত ১৫ ডিসেম্বর ‘একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশ (প্রথম পর্ব)’ শীর্ষক তালিকাটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের নাম রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে ওই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতার পক্ষের অনেকের নাম থাকায় তালিকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল বিকেলে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা যেভাবে পাওয়া গেছে, সেভাবেই প্রকাশ করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, এ তালিকায় বেশ কিছু নাম এসেছে, যাঁরা রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি বা স্বাধীনতাবিরোধী নন, বরং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বা মুক্তিযোদ্ধা। এ ধরনের কোনো ব্যক্তির নাম তালিকায় কিভাবে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

প্রকাশিত তালিকায় ভুলভাবে যদি কারো নাম এসে থাকে, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই করে তাঁর/তাঁদের নাম এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। প্রকাশিত তালিকায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

গতকাল সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রকাশিত তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রকাশিত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নাম আসলে আমি যেভাবে কষ্ট পেতাম, উনারাও সেভাবে কষ্ট পেয়েছেন। সে জন্য আমি ব্যথিত।’ এই ভুলের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায় অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তালিকা হুবহু তাঁরা প্রকাশ করেছেন, কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।’ কী উদ্দেশ্যে, কিভাবে এই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম এলো জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এই তালিকা আগেই করে রেখে গেছে। সেখানে কোনো ইল মোটিভ থাকতে পারে।’