ভারতে মুসলিম বিদ্বেষী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত

ভারতে মুসলিম বিদ্বেষী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিতর্কিত আইনটির প্রতিবাদে মঙ্গলবারও দিল্লির রাজপথ রণক্ষেত্র উঠে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, গত দুই দিনের মতো এদিনও ব্যাপক সংখ্যক লোক এই আইনের প্রতিবাদে সড়কে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সিলামপুর এলাকায় দিল্লি পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ হয়। ঘটনার জেরে সাতটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদসংস্থার সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সিলামপুর এলাকায় দিল্লির কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে জড়ো হন। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ছাত্র নিগ্রহের ঘটনার প্রতিবাদ জানান তারা।

পুলিশের দাবি, বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের দিকে ইট ছুড়ে মারলে পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তারা। তারপরই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা একটি স্কুল বাসে ভাঙচুর চালায় । আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় একটি পুলিশ পিকেটে।

আনন্দবাজার পত্রিকার পত্রিকার খবরে বলা হয়, জামিয়ার ঘটনার জেরে সোমবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা গ্রাহ্য হয়নি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু শিক্ষার্থী এ পরীক্ষা বয়কট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে আর্টস ফ্যাকাল্টির বাইরে বিক্ষোভে দেখান তারা।

এদিকে ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার ফের রাজপথে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তার নেতৃত্বে বিক্ষোভে অংশ নেন অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী ও নুসরাত জাহান।

দুপুর ১টা নাগাদ যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল শুরু হয়ে শেষ হয় ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারে।

মিছিল শুরুর আগে মমতা বলেন, ‘নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর বিরুদ্ধে যে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন হচ্ছে, সেগুলোকে সমর্থন জানাই। পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতে দেব না। কাউকে বাংলা ছেড়ে যেতে দেব না।’

এ দিনের মিছিলে উপস্থিত রয়েছেন যাদবপুরের সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী ও বসিরহাটের সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানও।

তাদের পাশে নিয়ে মমতা বলেন, ‘বিজেপি ভাবছে দেশ দখল করে নিয়েছি। সংখ্যার জোরে আইন পাস করানো যায়। মানুষের সমর্থন না পেলে কার্যকরী হয় না। সংবিধান মেনে নাগরিকত্ব আইন হয়নি। কবে বিল পাস হবে, আগে জানানো হয়নি। না জানায় অনেক সংসদ সদস্য পৌঁছতে পারেননি’।

দিন কয়েক আগে বিক্ষোভকারীদের কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘পোশাক দেখলেই বোঝা যায়, কারা বিক্ষোভ করছে।’

মোদির এমন বক্তব্য নিয়েও তাকে একহাত নেন মমতা। তিনি বলেন, ‘পোশাক দেখে কি আন্দোলনকারীকে চেনা যায়?’