কৃষকের কাছে থেকে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতে নাতে আটক প্রকৌশলী

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্রের লাইসেন্স দেবার নামে কৃষকের কাছে থেকে আদায় করা হচ্ছিল উৎকোচ। সোমবার কৃষকের কাছে থেকে ঘুষের টাকা সংগ্রহকালে স্থানীয়রা আটক করেছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক কর্মকর্তাকে। বিএডিসি তাড়াশ অফিসের অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইসরাফিল হোসেন পরে মুক্তি পেয়েছেন মুচলেকা দিয়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজয় দিবসে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিনা বাজারে প্রকৌশলীকে আটকের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস পরে মধ্যস্ততা করে মুচলেকার মাধ্যমে কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসে আলোচনা হয়। দ্রুত ঘটনার সুরাহা করা হবে বলে চেয়ারম্যান আশ্বাস দেন। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তাড়াশে সেচ যন্ত্রের লাইসেন্স পাননি ৪০৮ জন কৃষক। এমন অভিযোগ আলোচনায় আছে বেশ কিছুদিন ধরে।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, মাঝদক্ষিনা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মাহমুদের কাছে থেকে ৯৬ হাজার টাকা ঘুষ নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা ইসরাফিল হোসেন বৈদুত্যিক সেচ যন্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার নাম করে এ টাকা নেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ইসরাফিল হোসেন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার পথে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাকে আটক করেন। পরে আলোচনা ও মুচলেকার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

কৃষক ফিরোজ মাহমুদ অভিযোগ করেন, দেশীগ্রাম তালম ইউনিয়ন এলাকায় বৈদ্যুত্যিক সেচ যন্ত্রের আবেদনকারী কৃষকদের কাছে থেকে উৎকোচের টাকা আদায়ে গিয়েছিলেন ইসরাফিল হোসেন। তখন তাকে আটক করা হয়।

অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসরাফিল হোসেন বলেন,’ অভিযোগসহ ঘটনার ব্যাপারে পরে কথা হবে।’ এরপরই তিনি মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।

তাড়াশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘ইসরাফিল হোসেনের বিরুদ্ধে উৎকোচ নেওয়ার একাধিক অভিযোগ শুনেছি। আটকের বিষয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’