আগামী জুনের মধ্যে শুরু হচ্ছে রূপপুরে নিউক্লিয়ার চুল্লি বসানোর কাজ

আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নিউক্লিয়ার চুল্লি বা রিয়্যাক্টর স্থাপনের কাজ শুরু হবে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুরে। আর এতে প্রকল্পের অগ্রগতি দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজ। সময়মতো প্রকল্পটির নির্মাণ শেষ করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলেও নির্মাতারা বলছেন, এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ২০ শতাংশ কাজ।

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মাণকাজের বিশাল কর্মযজ্ঞ পাবনার ঈশ্বরদীতে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল নির্মাণকাজ শুরু হবার পর, টানা দু’বছর পুরকৌশলের কাজ চলেছে পুরোদমেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখানে স্থাপিত হবে পারমাণবিক চুল্লী। প্রথম ইউনিটের চুল্লীর ভবন নির্মাণেও অনেকটাই এগিয়েছে প্রকৌশলীরা।

অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেগেই লাসটোস্কিন বলেন, এ বছরটি আমাদের জন্য বড় মাইলফলক। বিভিন্ন ভবনসহ নিউক্লিয়ার আইল্যান্ডের কাজ আমরা যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে নিচ্ছি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু সংস্থা রোসাটমের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে, মস্কো থেকে প্ল্যান্টের ভারী যন্ত্রাংশ নদীপথে রূপপুরে নিয়ে আসতে পদ্মার তীরে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে জেটি নির্মাণের প্রস্তুতিও। আর এসব কাজে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অনুশাসন মেনে চলা হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেন, টোটাল কাজের বিশ শতাংশ আমরা অর্জন করেছি। আগামী বছরের মধ্যে নির্মাণের কাজ ৪০ মিটারের মতো নেবো। আমাদের কাঙ্ক্ষিত যে লক্ষ এবং সময় অনুসারে যে কাজ করার কথা তা আমরা অর্জন করেছি।

টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের অত্যাধুনিক এই প্রকল্পে কোনো পর্যায়েই গাফিলতির সুযোগ নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ওরা চারমাস বশ সময় চেয়েছে। আমরা বলেছি সময়মতো কাজটা যেনো হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ইউনিট ২০২৩ এবং পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে আর্থিক বিবেচনায় দেশের সবচে বৃহৎ এই প্রকল্প, এমন আশা নিয়েই এগোচ্ছে বাংলাদেশ।