বিচারের কাঠগড়ায় ঝিনাইদহের ৩ রাজাকার

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঝিনাইদহ জেলার হলিধানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ফলে বিচারের কাঠগড়ায় উঠতে হচ্ছে তাদের।

রোববার (২৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন চূড়ান্তের কথা জানান সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ৭৫তম প্রতিবেদন। দু’টি অভিযোগ তদন্ত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান।

যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে তাদের দু’জন হলেন, রাজাকার মো. আবদুর রশিদ মিয়া (৬৬), মো. সাহেব আলী মালিথা (৬৮) ও আছমত আলী। গত ২১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা মোতাবেক ঝিনাইদহ পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে ঢাকায় পাঠায়।

এর মধ্যে কোলা গ্রামের আব্দুল গণি মন্ডলের ছেলে আছমত রাজাকার পলাতক রয়েছে। শিগগিরিই তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুালের প্রসিকিউশনের কাছে দাখিলের কথা জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। এদিকে গ্রেফতারের পরই আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে আব্দুর রশিদকে। তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ থেকেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো এই রাজাকার পরিবারের সন্তানরা যুবলীগ ও মহিলালীগের বিভিন্ন পদে বহাল রয়েছেন। রাজাকারের নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে প্রতিবিন্ধ স্কুল।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেও পরিবারটি আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় থেকে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। ক্ষমতা প্রভাব ও প্রতিপত্তি গড়ে তুলে গোটা হলিধানী ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে আব্দুর রশিদ পরিবার। ইউনিয়নবাসি এই রাজাকার পরিবারের প্রতি প্রশাসন ও সরকারী দলের কতিপয় নেতার কেন এতা দুর্বলতা তা তদন্ত করে দেখতে দলীয় সভানেত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন।

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি