বিএসএফ’র তাড়া খেয়ে শিশু রাবেয়া বাংলাদেশে, মা ভারতে

রাবেয়ার বয়স মাত্র এক বছর দশ মাস। জন্মের পরপরই বাবা শরিফুল মোল্লার সঙ্গে মায়ের কোলে চড়ে চলে যান ভারতে। সেই থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ে থাকতো সে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) ভোরে কাঁটাতারবিহীন মাটিলা সীমান্ত পার হয়ে বাবা শরিফুল মোল্লার সঙ্গে রাবেয়া বাংলাদেশে ঢুকতে পারলেও বিএসএফ’র তাড়া খেয়ে মা ভারতে থেকে গেছে।

এরপর বাবার কোলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৫৮ বিজিবি’র হাতে আটক হয়। বিকেলে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানা পুলিশের মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয় তাদের। বিজিবির গাড়িতে চড়ে অন্যদের সঙ্গে মহেশপুর থানায় আসার পর বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায় শিশু রাবেয়াকে। বিপদে থেকেও থানা চত্ত্বর মাতিয়ে রাখে রাবেয়ার হাসিমাখা মুখ। তবে এখনও শিশুটি জানে না তার মা এদেশে নেই। আদৌ তার মা ফিরতে পারবে কি না সেটাও জানে না অবুঝ রাবেয়া। এদিন তাদের সঙ্গে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয় আরও ছয় শিশুসহ ৩০ নারী-পুরুষ।

শিশু রাবেয়াদের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতরাখালি গ্রামে। প্রায় ১৮ মাস আগে তারা পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় ভারতে গিয়েছিল কাজের জন্য। এমনটাই জানালেন রাবেয়ার বাবা।

সম্প্রতি ভারত সরকার সেদেশের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ করে। সেখানে নাম না থাকায় নির্যাতনের ভয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে বিজিবি ও জেলা প্রশাসন। তবে এসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি করছে বিজিবি।

তারা বলছেন, বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তের ওপারে আরও অসংখ্য নারী-পুরুষ প্রস্তুত রয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে এ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার সময় ২৪৩ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রাবেয়ার বাবা শরিফুল মোল্লা বলেন, ভারতে গিয়েছিলাম কাজের জন্য। সেখানে বোম্বে হোটেলে কাজ করতাম আমি ও স্ত্রী। বেশ কিছুদিন হলো আমাদের কাজের টাকা দেয় না মালিক। নানাভাবে মালিক নির্যাতন করতো। পাশাপাশি বিজেপি’র রাজনৈতিক লোকজন এসে ভয় দেখাতো। মালিকরাও বলতো এদেশের নাগরিক না, তোমরা বাংলাদেশে চলে যাও। এজন্য ভয়ে, টাকা পয়সা না পেয়ে আমরা বিনা পাসপোর্টে চলে এসেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী আসতে পারিনি। জানিনা সে কবে আসবে, কি আসবে না।

এমন আর্তনাদ সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেকারী মানুষের। এদিকে সীমান্ত পার হয়ে আসা অধিকাংশেরই নেই বৈধ নাগরিকত্ব। তাদেরকে পাসপোর্ট অধ্যাদেশ আইনে মামলার পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ-৫৮ বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল আহসান জানান, সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।