সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৬ জনের পরিচয় মিলেছে

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ২০ জন। রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ৬ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনও একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাজ করছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে ওই বিস্ফোরণের পর তাৎক্ষণিকভাবে ৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা গেলেও ৩ জনের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যে বিকেলে দুই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। এখন বাকি একটি মরদেহের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

পরিচয় পাওয়া নিহত ৬ জন হলেন- পটিয়ার উনাইনপুরা গ্রামের পলাশ বড়ুয়ার স্ত্রী ও পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এ্যানি বড়ুয়া (৩৮), চট্টগ্রাম আদালতের অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের স্ত্রী ফারজানা বেগম (৩২) ও তার ছেলে স্কুলছাত্র আতিক (১০), রংমিস্ত্রি নুরুল ইসলাম (৩০), রিকশাচালক আবদুস শুক্কুর (৫০), ভ্যানচালক মো. সেলিম (৪০)।

নগর পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) শাহ্ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, নিহত ৭ জনের মধ্যে ৪ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হলেও বাকি ৩ জনের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। বিকেল ৩টার দিকে আবদুস শুক্কুর (৫০) নামে একজনের লাশ শনাক্ত করে তার স্বজনরা। নিহত আবদুস শুক্কুর পেশায় একজন বিকশাচালক।

এ ছাড়া মো. সেলিম (৪০) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ শনাক্ত করে তার বন্ধু জসিম। সেলিমের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়। বাকি একটি মরদেহের এখনও পরিচয় মেলেনি।

এদিকে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।

এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের নির্দেশে সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলামসহ একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটি সিডিএর বিধি অনুযায়ী হয়নি।

সড়কের জায়গা দখল করে তৈরি করা হয় সেপটিক ট্যাংক ও তার পাশে কিচেন এবং গ্যাসের রাইজার রাখা ছিল। ফলে সেপটি ট্যাংকের জমে থাকা গ্যাস ও গ্যাসলাইনের লিকেজ একসঙ্গে হয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।