‘জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের উন্নয়নে বড় হুমকি’

জলবায়ু পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য একটি বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেন অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার। ১২ নভেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকালীন অর্থসংস্থান’ বিষয়ক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়। সভায় টেকসই উত্তরণ ও এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের অর্থসংস্থানে প্রবেশাধিকার অবারিত ও সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, ভূ-বেষ্টিত স্বল্পোন্নত দেশ ও উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের উচ্চ প্রতিনিধির কার্যালয় এবং উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) আয়োজিত দু’দিন ব্যাপী এই সভাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার। এ সময় তিনি রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশ এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ অভিমুখে বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রার নানা তথ্য-চিত্র তুলে ধরেন।

উঠে আসে প্রথমবারের মতো এলডিসি থেকে বিপুল মার্জিন নিয়ে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন, দারিদ্র্য ও অতি-দারিদ্র্য হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশু ও মাতৃ মৃত্যু হার হ্রাস, বয়স্ক শিক্ষাসহ শিক্ষার হার বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, জিডিপিতে শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতের অবদান, ব্যষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, বাজেটের মূলভাগে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ বিষয়ক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্তি, দেশব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ১০০ অর্থনৈতিক অ ল ও ২৮টি আইটি পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, লিঙ্গ সমতা অর্জন, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ এর উন্নয়ন এজেন্ডার মতো বিষয়গুলো। বাংলাদেশ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যে উদার ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তাও তুলে ধরেন তিনি।

অর্থ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সফলতার সাথে এমডিজি বাস্তবায়ন করেছে, আর এসডিজি বাস্তবায়নেও শেখ হাসিনা সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত ও সফলভাবে এসডিজি বাস্তবায়ন উভয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য একটি বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেন অর্থ সচিব। বাংলাদেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বার্ষিক অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থসংস্থান প্রয়োজন মর্মে উল্লেখ করেন অর্থ সচিব। উত্তরণকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পদক্ষেপসমূহ (আইএসএমএস), প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সহযোগিতা (ওডিএ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভাটিতে আরো অংশগ্রহণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা বিভিন্ন বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, সার্বিকভাবে নিরাপত্তা, পরিবেশ ও সামাজিক বিন্যাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের এই সভায় ‘জলবায়ু অর্থায়নে অধিক প্রবেশাধিকার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনার আওতায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান ও সলোমন আইল্যান্ড উত্তরণকালীন অর্থসংস্থান বিষয়ক কেস স্টাডি তুলে ধরেন। প্যানেল আলোচনার মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশের সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এর পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টচার্য।