বুলবুলের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যসহ সবজির বাজারে

রাজধানী ঢাকাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যসহ সবজির বাজারেও। শীতের মৌসুম শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে মৌসুমি সবজির মূল্য এখন চড়া। ক্রেতারা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মূল্য চড়া সবজির বাজারে।

রবিবার ১০ নভেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও মোহাম্মদপুর জাফরাবাদ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম এই সপ্তাহে বেড়েছে। দোকানিরা বলছেন, মূলত বৃষ্টির কারণে শহরে শীতের সবজি পৌঁছাতে পারছে না। এজন্যই মূল্য বেশি। বৃষ্টি কমলেই মূল্যও কমবে।

কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা স্বপন বলেন, ‘গত সপ্তাহে ফুলকপি বিক্রি করেছি ৩০ টাকায়। কিন্তু এ সপ্তাহে ৪৫ টাকায় বিক্রি করছি।’

হাতিরপুল কাঁচাবাজারের সবজিবিক্রেতা মকবুল বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সবজির ট্রাকগুলো ঢাকায় পৌঁছাতে পারছে না। তাই সবজির মূল্য একটু বেশি।’

এদিকে, ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন বর্তমানে সবজির মূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। কেউ কেউ বলছেন, সিন্ডিকেট করে মূল্য বাড়ানো হয়েছে।

হাতিরপুল এলাকার গৃহিণী শারমিন বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহের সবজির মূল্য অনেক বেশি। আমার মনে হয়, সবকিছুই হচ্ছে সিন্ডিকেটের কারণে। আমরা চাল বেশি খাই কিন্তু সেই পরিমাণ পেঁয়াজ খাই না।চালের মূল্য ৪০ টাকা কেজি হলে পেঁয়াজ কীভাবে দেড়শ টাকা কেজি হয়? এগুলো মূলত সিন্ডিকেটেরেক কারসাজি। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার জন্য এসব করা হচ্ছে।’

বাজার করতে আসা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুকুল হোসেন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা মূলত সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। বর্তমান যে সবজির বাজার দর, তা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। এই বাজার দর এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি দরকার।’

দোকানির তথ্যমতে, বাজারের বর্তমান পেপে ২০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ৪৫ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বেগুন ও পটল ৫০ টাকা কেজি, গাজর ও শসা ৮০ টাকা কেজি, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, শিম ৭০ টাকা কেজি, কুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং বড় বেগুন ৬০ টাকা ও সাদা বেগুন ৫০ টাকা কেজি।