মাধবকুণ্ডের ঝর্ণাতে বিষ ঢেলে দেয়াতে ভেসে উঠে জলজপ্রাণী

মৌলভীবাজার মাধবকুণ্ড ঝর্ণাতে বিষ ঢেলে দেয়াতে ভেসে উঠে জলজপ্রাণগুলো। রবিবার (৩ নভেম্বর) রাত থেকে কেউ পানির মধ্যে পাহাড়ি বিষ লতা দেওয়ার কারণে ঝরনার পানিতে এই মাছ মারা যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। এতে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এসে জানতে পারে ঝর্ণার সবুজাভ পানিতে কেউ বিষ ঢেলেছে। তাই ছোট বড় সব প্রাণ মরে ভেসে উঠছে।

এই বিষ ভেসে যাচ্ছে ঝর্ণা থেকে ঝিরি খালে। সেইসাথে বিষাক্ত হচ্ছে পানি। বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়াসহ সকল অণুজীব। ঝর্ণাসহ আশেপাশের জলজ প্রাণ চক্র বিনাশ হতে বসেছে। পাহাড় ঢিলাবেষ্টিত বনের শূকর, বানরসহ নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী ঝিরি খালের এই বিষমিশ্রিত পানি পান করে জীবন সংকটে পড়েছে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) বিকালে মৎস্য বিভাগের লোকজন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করেছেন। এতে তারা (মৎস্য বিভাগ) পানির প্যারামিটার মোটামুটি স্বাভাবিক পেয়েছেন। তবে তাদের (মৎস্য বিভাগের) ধারণা, মাছ মারার জন্য কেউ পানিতে পাহাড়ি বিষলতা প্রয়োগ করেছে। ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  মাধবকুণ্ড এলাকায় পর্যটক, পর্যটন পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুণ্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী ভেসে উঠতে দেখেন। মৃত মাছের কারণে আশপাশের এলাকা ও জলপ্রপাতের পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। মৃত মাছের মধ্যে ছিল পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ। স্থানীয় লোকজন ও মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কর্মীরা মরা মাছ পানি থেকে তুলে সরিয়ে ফেলেন।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকার ব্যবসায়ী জহির আহমদ ও কবির  আহমদ বলেন, ‘রবিবার থেকে এই ঝরনার পানিতে মরা মাছ ভাসতে দেখি। এই পানি হাকালুকি হাওরে যাবে। সেখানে মাছ মরবে। তখন সেখানে মাছ ধরবে। এই পানি অনেকে খেয়ে থাকে। বিষ দেওয়া হলে মানুষ ও পশুপাখির ক্ষতি হবে।’

মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের পাশে পানপুঞ্জিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাসিন্দা ফিলা খংলা বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে দেখছি ঝরনার পানিতে মাছ মরা। পানিতে দুর্গন্ধ। বেশ কয়েকটা মরা বামাস মাছ তুলেছি। কাঁকড়াসহ বিভিন্ন ধরনের মাছও ছিল। তবে এখন মরা মাছের সংখ্যা কমছে।’

বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর পানির কোয়ালিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। পানির কোয়ালিটি প্যারামিটার মোটামুটি স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা পাহাড়ি বিষলতা কেউ পানিতে দিয়েছে। এ কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজ জীব মারা যাচ্ছে। আমরা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পানিতে ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করছি। আশা করছি ওষুধ দেওয়ার পরে পানিতে বিষাক্ততার প্রভাব কমে যাবে।’

বড়লেখা রেঞ্জের বন বিভাগের বিট অফিসার শেখর রঞ্জন বলেন, ‘মাছ মরার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি। কী কারণে জলজ জীব মারা গেছে কারণ এখনও পাইনি। কারণ জানতে অনুসন্ধান চলছে। পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ কাজ করছে।’