কাউন্সিলর রাজীবের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

চলমান শুদ্ধি অভিযানে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‍্যাব) হাতে গ্রেফতার হন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজীব। এ ঘটানায় রাজীবকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।বহিষ্কৃত নেতা রাজীবকে মাদক ও অস্ত্র আইনের পৃথক দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৪ নভেম্বর) উভয় মামলার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ এ আদেশ দেন।

আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) পুলিশের উপ-পরিদর্শক লিয়াকত হোসেন এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক ফজলুল হক অস্ত্র মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে রাজীবকে আদালতে হাজির করেন। তিনি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

লিয়াকত হোসেন বলেন, মাদক আইনে দায়ের মামলায় এর আগে রাজীবের রিমান্ড শেষ হয়েছে। সোমবার অস্ত্র মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক ফজলুল হক বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়, রাজীব দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজ হেফাজতে রেখে তার সহযোগীদের সহযোগিতায় তা প্রদর্শন করে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। কথিত আছে, সে ওই দুই থানা এলাকায় অপরাধ জগতের সুলতান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার গঠিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে অবৈধ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছে সে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এছাড়া দফায় দফায় জিঙ্গাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তে জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে।’

মামলার তদন্ত চলাকালে আরও নতুন তথ্যের প্রয়োজন হলে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এর আগে গত ২০ অক্টোবর উভয় মামলায় রাজীবকে সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।