‘বাংলাদেশের হয়ে খেলবো ২০২০-এ, তার আগ পর্যন্ত হৃদয়ে রাখবেন’

তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও না জানানোয় সব রকম ক্রিকেট থেকে এক বছর নিষিদ্ধ হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশকে এক বছর কাটাতে হবে সাকিব ছাড়াই। এ নিয়ে ভক্তদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আইন লঙ্ঘনের অপরাধে সাকিবকে এ শাস্তি দিয়েছে আইসিসি।

শাস্তির খবর আইসিসির জানানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজি হরফে লেখা ছিল সাকিবের নিজের কথাও। যেখানে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘণ্টাখানেক পর বিসিবি লাউঞ্জে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমে একই কথাগুলো বাংলায় বলে যান সাকিব।

তখন তাকে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে চাইলেও সাফ জানিয়ে দেন এখন কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চান না। শুধু সেদিনই নয়। সাকিব চুপ ছিলেন পুরো তিনদিন। অবশেষে শুক্রবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মুখ খুলেন তিনি। জানালেন নিজের কথা।

পাঠকদের জন্য হুবহু সাকিবের সেই ফেসবুক পোস্ট তুলে ধরা হলো:

‘আমার সকল ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে, শুরুতেই আমি বলতে চাই আপনার নিঃশর্ত ভালোবাসা ও অকুন্ঠ সমর্থনে আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত। বিশেষ করে গত কয়েকটা দিন আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই কঠিন ছিলো। এই কয়েকদিনে আমি আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি যে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আসলে কতটা গর্বের।

এ বিষয়ে আমি আমার সকল সমর্থকদের বলবো ধৈর্য্য ধারণ করুন। বিশেষ করে যারা আমার ওপর আসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন।

আমি এটা পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট যে তদন্তটা করেছে, এটা পুরোপুরি গোপন ছিলো এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানতে পেরেছে আমার কাছ থেকেই। আমাকে নিষিদ্ধ করার কয়েক দিন আগে। এরপর থেকে বিসিবি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে এবং আমার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছে। এ কারণে আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

আমি বুঝতে পারছি কেনো অনেক মানুষ আমাকে সাহায্য করতে চাইছে। আমি তাদের এই ইচ্ছাকে সাধুবাদ জানাই। যাই হোক, এটা একটা প্রক্রিয়া ছিলো এবং আমি আমার শাস্তি মেনে নিয়েছি। কারণ আমার মনে হয়েছে এটা করাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।

আমার পুরোপুরি ধ্যানজ্ঞান এখন আবারও ক্রিকেট মাঠে ফেরা এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশের হয়ে খেলা। তার আগ পর্যন্ত আমার জন্য দোয়া করবেন এবং হৃদয়ে রাখবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।’