দিনাজপু‌রের নাট্য স‌মি‌তি‌তে ম‌ঞ্চস্থ্য হ‌তে যা‌চ্ছে নাটক ‘কনক সরোজিনী’

দিনাজপুরের শতবর্ষী নাট্য মঞ্চ দিনাজপুর নাট্য স‌মি‌তি‌তে অনু‌ষ্টিত হ‌তে যা‌চ্ছে নাটক ‘কনক সরোজিনী’। মাহমুদুল ইসলাম সেলিম রচনায় ও দুই বাংলার জন‌প্রিয় নির্দেশক নয়ন বার্টেলের প‌রিচালনায় আজ ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ও আগামীকাল ১ নভেম্বর শুক্রবার একই সময়ে মঞ্চায়ন হ‌বে।

দিনাজপুর নাট্য সমিতি প্রযোজিত ও ইতিহাস আশ্রিত এই নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন সুপ্রীতি প্রিয়া। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে থাকছেন- সম্বিত সাহা, ওমর শরীফ, কথক, সুপ্লা সাহা, তরিকুল আলম, রেনু বেগম, স্মৃতি, সগীর কমল, টঙ্কনাথ, রাজিব হোসেন, কনক রায়, জাহিদ হোসেন প্রমুখ। বাংলার নাটকে উনিশ শতক নানা কারণেই স্মরণযোগ্য।

ভারতীয় রেঁনেসা উত্তর এই সময়ে বাংলা নাটকের অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়। পেশাদার রঙ্গমঞ্চ এসময়ে এক পূর্ণাবয়ব লাভ করে। কলকাতার এই নাট্যযাত্রার প্রভাব তৎকালীন পূর্ববাংলার ঢাকাসহ মফস্বলে ছড়িয়ে পরে। তখনকার নাটকে মূলস্রোতে দাঁড়িয়েছেন নারী অভিনেত্রীরা। তাদের ভাসমান জীবন, মূল্যহীন যৌবন, আর অবশ্য বিক্রয়যোগ্য প্রতিভা বা ক্ষমতা সবটাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় পণ্য। শিল্পী এখানে দেহ সৌষ্ঠব আর লিঙ্গের কারণেই গুরুত্বহীন। হয়ত তাঁদের অকালমৃত্যু আর নিরন্তর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের অজানা পেশাদার রঙ্গমঞ্চের অলিখিত ইতিহাস।

ইতিসাসের সেসব ঘটনাই উপজীব্য হয়েছে এই নাটকে। অভিনেত্রী বিক্রয়ের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়েছে এতে। আজ বিংশ শতাব্দিতে দাঁড়িয়ে আমরা কি পেরেছি নারীর প্রতি সেই কুৎসিত দৃষ্টিভঙ্গি ফেরাতে? তেমনি অনেক প্রশ্নের উদ্রেক রয়েছে এই নাটকে। নবনির্মিত এ নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, সঙ্গীত ও আলোকায়ন করছেন নির্দেশক নিজেই। শতবর্ষী ঐতিহ্যের নাট্যসংগঠন দিনাজপুর নাট্য সমিতি। এটি নয়ন বার্টেল নির্দেশিত ১৭তম প্রযোজনা।

এর আগে ‘ক্ষতবিক্ষত’, ‘ময়ূর সিংহাসন’, ‘প্রাগৈতিহাসিক’সহ বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়ে‌ছেন। তি‌নি ওপার বাংলায় বেশ কিছু নাটক প‌রিচালনা ক‌রে কু‌ড়ি‌য়ে‌ছেন অ‌নেক সুনাম। এই নাটক দেখার জন্য নাটক প্রেমীরা অপেক্ষার প্রহর গুন‌ছেন। দিনাজপু‌রের মত এক‌টি মফস্বল শহ‌রে সংস্কৃ‌তি ও ঐ‌তিহ্যকে তু‌লে ধর‌তে নাট‌কের বিকল্প নেই।

ফখরুল হাসান পলাশ, ‌দিনাজপুর প্রতিনিধি