চাঁদাবাজির দায়ে গ্রেফতার রাজধানীর দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দলমত নির্বিশেষে দেশমাতৃকার সেবা ও উন্নয়নকল্পে সকল দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, সেই মর্মে একেরপর এক অপরাধী গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার মহান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ঠিক তখনই এক শ্রেণীর চাঁদাবাজ স্বীয় কৃতকর্মের জন্য ধরা পড়ছেন আইনের বেড়াজালে। তেমনি একজন চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং-এর মূলহোতা ও দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত (২৬) দক্ষিণখান থানা পুলিশের হাতে গত ২৯-১০-২০১৯ইং গ্রেফতার হয়।

হাসিবুল হাসান শান্ত(২৬) দক্ষিণখান থানাধীন নগরীয়াবাড়ির কর অধিদপ্তরের কর্মচারী জনাব মাহবুবুল আলমের ২য় পুত্র। শান্ত দীর্ঘদিন যাবত নগরীয়াবাড়ির সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতনা। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন হয়রানি, মারপিট এমন কি মৃত্যুর মতো ভয়ানক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

ইতোপূর্বে দক্ষিণখান কেসি হাসপাতালের সামনে মেহেদী হত্যা তার জলন্ত প্রমাণ। কিন্তু মূল আসামি হওয়ার পরও কোন অদৃশ্য শক্তির কারনে বারবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে আসে শান্ত। নগরীয়াবাড়ি এলাকায় কিশোর গ্যাং (শান্ত গ্রুপ) গড়ে তুলে নিয়মিত রাজত্ব করা এই ছাত্রলীগ নেতার ক্ষমতার দাপটের গডফাদার কে তা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। এলাকাবাসী মনে করেন শান্ত’র বাবার অবৈধ টাকা আর কিছু রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়া তার বেপরোয়া জীবনের মূল কারণ।

ঘটনায় প্রকাশ, দৈনন্দিনের মতো শান্ত গ্রুপ ২৯-১০-২০১৯ইং এলাকায় চাঁদা নিতে থাকে। এক পর্যায়ে ফার্নিচার দোকানদার জনাব ইসমাইল হোসেনকে মারধর করে ও নগদ পঁচিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অসহায় ইসমাইল হোসেনসহ ভুক্তভোগী ৬০/৭০জন নিরুপায় হয়ে মিছিল নিয়ে দক্ষিণখান থানায় আসে এবং শান্ত ও তার দলবলসমেত সবার বিচার দাবী করে। পরে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে উক্ত থানার তিনটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে শান্তসহ আরো দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের বিরুদ্ধে অত্র দক্ষিণখান থানার মামলা করা হয়। যার নং – ৫৪(১০)২০১৯ ধারা-১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ পিসি। এজাহার নামীয় আসামী শান্তসহ ১০ জন। শান্তসহ গ্রেপ্তার ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি আসামি পলাতক রয়েছে। ছাত্রলীগ নামধারী শান্ত ও তার দলবল গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীয়াবাড়ি এলাকার একজন ব্যবসায়ী জানান, শান্ত’র বাবা কমিউনিটি পুলিশিং এর সেক্রেটারি, অবৈধ টাকা আর ছাত্রলীগের পরিচয়ে শান্ত বীরদর্পে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করে চলছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই বিপদ। যেকোন সময় রাস্তাঘাটে অপমান অপদস্ত হতে হয়। যতবারই সে গ্রেফতার হয় অজানা কারনে আবার ফিরে আসে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা আকুল আবেদন জানাচ্ছি- এরকম চাঁদাবাজ, মাদক ব্যাবসায়ীর যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। যে বা যারা এরকম সন্ত্রাসীকে লালনপালন করেন, তিনি তাদেরও শাস্তি দাবী করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম আহম্মেদ বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ (সৌরভ) এর সাথে।

তারা জানান- শান্ত’র অপরাধ প্রমানিত হয়ে সাংগঠনিক ভাবে আমরা ব্যবস্হা নেব। কোন অপরাধী ছাত্রলীগে রাখবো না। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব শিকদার মোঃ শামীম বলেন- “আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। অপরাধী যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, আইনের চোখ ফাঁকি দিতে পারবে না। আমরা তৎক্ষনাৎ মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি আসামী খুব শ্রীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারবো”।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত গ্রেফতারে এলাকায় যেমন শান্তি বিরাজ করছে তেমনি জনমনে প্রশ্ন “এবারও শান্ত আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেড়িয়ে আসবে না তো”?