‘আমার কোলের সন্তান গো আল্লাহ, আঁচল পাইতা প্রাণ ভিক্ষা চাই’

‘আল্লাহ গো, আমার সোনারে বুকে ফিরাইয়া দাও গো আল্লাহ। আমার রিয়া কই, তোমরাও কও রিয়া কই। আমার কোলের সন্তান গো আল্লাহ, আঁচল পাইতা প্রাণ ভিক্ষা চাই। ফিরাইয়া দাও।’ মিরপুর রূপনগর ১১ নাম্বার সড়কের শিয়াল বাড়ি বস্তির ঘরের মেঝেতে শুয়ে বসে এভাবেই কাঁদছেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৭ বছরের রিয়ার মা।

রিয়ার মায়ের নাম মরিয়ম বেগম এবং বাবার নাম মো. মিলন মিয়া। রুপনগর শিয়াল বাড়ি বস্তির একটি ঘরে থাকেন তারা।

গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে গেছেন বাবা। তবে হাসপাতালে নিতে নিতেই মারা গেছেন রিয়া। মেয়ের লাশের পাশে হাসপাতালেই আছেন তিনি। তবে মেয়ের মৃত্যু খবর এখনো জানেন না মা মরিয়ম বেগম। তাই বার বার মেয়ের জীবন ভিক্ষা চাচ্ছেন তিনি।

রিয়ার মামা লতিফ উদ্দিন বলেন, ‘রিয়া হাসপাতালে মারা গেছে। কিন্তু ওর মায়েরে এখনো এ কথা বলা হয় নাই। বার বার সে মাইয়ারে কাছে যেতে চাচ্ছে। কোনোভাবেই তাকে ঠেকানো যাচ্ছে না।’

সায়মা খাতুন নামের ওই বস্তির এক নারী বলেন, ‘রিয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। ওর বাবা প্যারালাইসিসের রোগী। তেমন হাটাচলা করতে পারে না। রিয়ার মা বাসা বাড়িতে কাম করে। এখন মারা যাওয়ার কথা জানে না রিয়ার মা।’

এর আগে আজ বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর রোডে বেলুন ফোলানোর একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কয়েকজন।

বিস্ফোরণে নিহতরা হলো, রমজান (৮), নুপুর (৭), শাহীন (৯) ও ফারজানা (৬)। নিহত আরেকজনের নাম এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়া আহত হয় জান্নাত (২৫), জুবায়ের (৮), সাদেকুর (১০), নাহিদ (৭), জামিল (১৪), আরিয়ানসহ (৯) কয়েকজন।

রূপনগর থানা সূত্রে জানা যায়, আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো বলা যাচ্ছে না।