দেশি পেঁয়াজ ১০ টাকা হালি!

একমাসেরও বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া। আমদানি করেও কমানো যায়নি পেঁয়াজের দাম। গত আগস্টে ঈদুল আজহার পর থেকেই ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। প্রচণ্ড বৃষ্টি আর ভয়াবহ বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয় দেশটি। দেশে আগে থেকেই বাড়তে থাকা পেঁয়াজের দাম এসময় একলাফে পৌঁছায় শতকের ঘরে।

এমনি সময় দেশি পিঁয়াজ একহালি ১০ টাকা দরে বিক্রি চলছে। একটি মুদির দোকানে পেঁয়াজের বস্তার ওপরে পলিথিনে প্যাকেট করা চারটি পেঁয়াজ। প্যাকে’টের গায়ে লেখা এই কথাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে!

এদিকে পেঁয়াজের এই অস্থির বাজার নিয়ে অনেকে পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার অনেকে এ নিয়ে নানারকম কৌতূহলী রসাত্মক মন্তব্য করেছেন ফেসবুকে। সম্প্রতি ভারত থেকে পিঁয়াজ আম’দানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে পিঁয়াজের বাজার। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বাজারে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পিঁয়াজ।

খুচরা বাজারে এখন দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দেশি পিঁয়াজের সংকট আর আম’দানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে না আসায় দাম বেড়েই চলেছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘শিগগিরই মিশর থেকে পেঁয়াজ এলে দাম ৮০ টাকায় নেমে আসবে।

এর মধ্যে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে রাজধানীতে ট্রাক সেলে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। তবে তা চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে, সরকার পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে মিয়ানমার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ দেশেও পৌঁছায়। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ভারতের পেঁয়াজের যে সমাদর রয়েছে, অন্য দেশের পেঁয়াজ তা মেটাতে পারবে না। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়া বা দেশীয় জাতের নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগ পর্যন্ত পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম। শেষ পর্যন্ত আমদানি করা ওইসব পেঁয়াজ কমাতে পারেনি বাজারের উত্তাপ। বরং গত কয়েকদিনে পেঁয়াজের দাম একশ থেকে বাড়তে বাড়তে কোনো কোনো স্থানে পেঁয়াজের কেজি এখন ১৫০ ছুঁইছুঁই।