রাস্তা পারাপার সহজ করতে এবার চালু হতে যাচ্ছে ‘পুশ বাটন’

স্কুলের সামনের রাস্তার সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে কোমলমতি শিশুরা। গাড়িও থামছে না রাস্তাও পার হতে পারছে না তারা। এটি নিত্যদিনের ঘটনা। একই চিত্র হাসপাতালগুলোর সামনেও। তাই রাস্তা পারাপার সহজ করতে এবার চালু হতে যাচ্ছে ‘পুশ বাটন’ ব্যবস্থা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আসাদ এভিনিউতে বসানো হয়েছে দেশের প্রথম পুশ বাটন। গ্রিন হেরাল্ড স্কুলের সামনের রাস্তায় বসানো হয়েছে ওই বাটনটি। যদি কেউ সন্তানকে নিয়ে রাস্তাটির এপার থেকে ওপারে যেত চান তবে পুশ বাটন চাপলেই থেমে যাবে চলন্ত গাড়ি। আর সেই সময়ে নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপার করতে পারবেন পথচারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম পুশ বাটন সিস্টেম ট্রাফিক সিগনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এর মধ্য দিয়ে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল এই পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল ও অন্যান্য স্কুলের সামনেও একই পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুশ বাটন নিয়ে মনে প্রশ্ন আসতে পারে—তাহলে রাস্তা দিয়ে যখন তখন পুশ বাটন চাপলে গাড়ি চলবে কী করে? হ্যাঁ, প্রশ্নটি যৌক্তিক। কিন্তু পুশ বাটন চাপলেই হবে না। একজন চাপ দিয়ে পার হয়ে যাওয়ার আড়াই মিনিটের মধ্যে আর চাপলেও সিগনাল বাতি জ্বলবে না। অর্থাৎ একবার চাপার আড়াই মিনিট পর আবার চাপা যাবে। এই সিগনাল হবে ২৫ সেকেন্ড স্থায়ী।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে পুশ বাটন সিস্টেমের ডিজাইন করেছে আরবিকো কনসালট্যান্ট লিমিটেডে নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। প্রকল্পটি পরিচালনা করবে গ্রিন হেরাল্ড স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাদের নিরাপত্তা কর্মীরা হাতে থামুন লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াবে সিগনালে।

আরবিকো কনসালট্যান্ট লিমিটেডের নগর ও পরিবহন পরিকল্পনাবিদ নূর-ই-দিফা মুত্তাকি বলেন, এই প্রকল্প চালু করতে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না। আমরা এখানে চালু করছি, এরপর আরো তিন জায়গায় কাজ চলছে। আপনি চাইলেই বাটন চাপলে লাইট জ্বলবে না। একজন চাপ দিলে আড়াই মিনিট পর পরবর্তী জন চাপতে পারবেন।

তিনি বলেন, এই পদ্ধতি চালু করলে স্কুল, হাসপাতালসহ জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে আমরা মনে করছি। এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতি অন্যান্য জায়গাতেও চালু করা যেতে পারে যদি মেয়র অনুমোদন করেন।

নূর-ই-দিফা মুত্তাকি অনন্যা আরো বলেন, এখানে উজ্জলতর রং ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন স্কুলের মতো ‘থামুন’ সংকেত হাতে একজন ব্যক্তি রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করবেন। এতে চালক ও পথচারীরদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তারা সিগনাল ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্রিল হেরাল্ড স্কুলের সামনে দুটি পুশ বাটন সিগনালে ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।