রাবি ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে বুথ স্থাপন, ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে ফোন চুরির অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এবারের ২০১৯-২০ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যেকোনপ্রকার বুথ বসানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো প্রশাসন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে মোবাইল-ব্যাগ জমা রাখার বুথস্থাপন করে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী মেহেদী হাসান চঞ্চল। পরীক্ষা শেষেভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা যখন জমা রাখা মোবাইল ফোন ফেরত নিতে আসে, ততক্ষণে বুথ হাওয়া। সম্প্রতি ঘটেযাওয়া এমন একটি ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

রবিবার(২১ অক্টোবর) ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পরপরই ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়বেলা ১১ টা ৪৫ এর পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে বুথে মোবাইল ফোন জমারাখার জন্য দায়িত্বরত অবস্থায়।

তাকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে বুথ কেন বসিয়েছে এবং মোবাইল ফোন চুরি হওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাকরা হলে সে বলে যে এ ব্যাপারে কিছুই জানে না এবং বুথটি বসিয়েছে মার্কেটিং দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদীহাসান চঞ্চল। দৈনিক ৫০০ টাকার বিনিময়ে চঞ্চল তাকে বুথে বসার দায়িত্ব দেয়।

পরে খোজ নিয়ে জানা যায়, মেহেদী হাসান চঞ্চল পুরো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এমন আরো ১০-১২ টিবুথ বসিয়ে ব্যবসা করেছিলো। যার কোনটিই প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে ছিলো না।

মোবাইল হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান চঞ্চল বলেন, “আমিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবন, ২য় বিজ্ঞান এবং ৩য় বিজ্ঞান ভবনের পাশে বুথ ৩ টা বসিয়েছি আবারতুলেও ফেলেছি। তবে এধরণের কাজের সাথে আমি জড়িত না।“

জানা যায়, ঐ সময় সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন বিএনসিসির সদস্য ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের  ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী  জিল্লুর রহমান এবং গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নূর।ঘটনার সত্যতাস্বীকার করে জিল্লুর রহমান বলেন, “আমি তখন দুপুরের খাবার খেতে যাচ্ছিলাম। বের হয়ে মোবাইল জমারাখা বুথের খোঁজ না পেয়ে কান্না করতে করতে থাকে। এসময় ১৭-১৮ জন ভর্তিচ্ছু আমার কাছে মোবাইলজমা রাখা বুথের খোঁজ নিতে আসেন। কিন্তু ততক্ষনে লাপাত্তা হয়ে যান তারা। আমি খেতে যাওয়ায় গ্রাফিক্সডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিএনসিসির সদস্য নূর কে বিষয়টি দেখতে বলি।”

এসময় স্বেচ্ছাসেবকরা পরীক্ষার্থীদেরকে ওই ভবনের পাশে প্রশাসনের বসানো ৭ নম্বর হেল্প ডেস্কে তা জানাতেবলেন।

তবে এ বিষয়ে ৭ নম্বর হেল্প ডেস্কের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রক্টর সুমন হোসেন বলেন, আমি থাকাকালেএরকম কোন অভিযোগ পাইনি। আমার অনুপস্থিতিতে কেউ এমন অভিযোগ করেছে বলে আমার জানানেই। কেউ অভিযোগ করে থাকলে আমি অবশ্যই জানতাম। কিন্তু বিএনসিসির সদস্যদের জানানোর পরেওনির্বিকার থেকেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হায়দার আলী বলেন, “ফোনগুলো চুরি হয়েছে কোনো একটা হেল্প ডেস্ক থেকে।তাহলে আমার প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক আগেই বলা হয়েছিল কোন বুথ বসতেপারবে না, তাহলে কেন এ বুথগুলো বসানো হলো। কার ইশারায় তারা বুথ বসালো?”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, “যারা এর সাথে জড়িত তারা কোনো ভাবেই রেহাই পাবে না। বিষয়টি নিয়ে ডিবির সাথে কথা হচ্ছে এবং তারাই ঘটনা তদন্ত করছে। “

রাবি প্রতিনিধি