যুবলীগের দায়িত্ব পেলে উপাচার্যের পদও ছেড়ে দিতে রাজি আছিঃ ড. মীজানুর

যুবলীগের দায়িত্ব পেলে উপাচার্যের পদও ছেড়ে দিতে রাজি আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের টকশোতে এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন যুবলীগের বর্তমান কমিটির এই এক নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হলেও পরদিন দুপুর পৌনে ১টায় নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার দেওয়ার পরই তা ভাইরাল হয়।

টকশোতে সাংবাদিক রেজোয়ান সিদ্দিকী যুবলীগের পদ নিয়ে প্রশ্ন তুললে অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেন, ‘আমি উপাচার্য হওয়ার পর আর কোনো (যুবলীগের) মিটিংয়ে যাই না। তবে আমাকে যদি এখনো বলা হয়, যুবলীগের দায়িত্ব নিতে হবে, আমি ভাইস চ্যান্সেলরের পদ ছেড়েই দায়িত্ব নেব। যুবলীগ একটি ভালোবাসার জায়গা।’ ড. মীজানুর রহমান ২০১৩ সালের ২০ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে ছিলেন।

সম্প্রতি যুবলীগের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ ওঠে। আর এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানও চালায়। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হন। এর পর থেকে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নামও উঠে আসে। এরই মধ্যে তার বিদেশ যেতে বাধা ও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘এখন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক দায়িত্বে নেই বললেই চলে। আর যখন সভাপতি দায়িত্বে থাকে না তখন এক নম্বর সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। তাই আমাকে যদি দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা হলে আমি তাই করব। হাজার হাজার যুবক সব তো আর ক্যাসিনো ব্যবসা করে না। সবাইকে একত্রিত করে কাজ করার জন্য এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আর কী হতে পারে? তা ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ তো একসময় ছেড়ে যেতেই হবে। আমাকে নেত্রী (শেখ হাসিনা) যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি তা পালন করেছি। এখনো যদি এ দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমি ভিসি পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।’

যুবলীগের নেতৃত্বের বয়সসীমা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘এটা নেত্রী চাইলে বেঁধে দিতে পারেন। এখন যিনি চেয়ারম্যান তার বয়সটা অনেক বেশি। এটা তো আগে ছিল না। তবে বেঁধে দেওয়ার আগের গড় আয়ু যে বেড়েছে সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। তবে কম বয়সীদের নেতৃত্বে আনলে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে, এটাও একদিক থেকে ভালো।’