পারস্য উপসাগরে যুদ্ধবিমান দিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির বিমানবাহিনী পারস্য উপসাগরের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে এক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলটিতে সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই তেহরানের এ মহড়া।

দেশটির বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’র খবরে বলা হয়, শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল থেকে মহড়াটি শুরু হয়। যেখানে ইরানি বিমান বাহিনী এবং আইআরজিসির বেশ কিছু ট্যাক্টিক্যাল, কমব্যাট, ট্যাঙ্কার যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে। আগামী রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশব্যাপী প্রতিরক্ষা সপ্তাহ শুরু হবে।

তেহরানের দাবি, আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে মূলত ইরানি সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি পরীক্ষার জন্যই এই মহড়াটি শুরু হয়েছে। যদিও গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ছিল সেই প্রস্তুতি মহড়ার প্রথম দিন। সেদিন তেহরানের যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসের শহীদ আব্দুল করিমি বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে।

মোহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হামিদ ভাহেদি বলেছেন, ‘আমাদের এই প্যারেড মূলত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছে। আগামী রবিবার মহড়ায় যুদ্ধবিমান ছাড়াও প্রায় দুই শতাধিক ফ্রিগেট এবং স্পিডবোট অংশ নিয়ে তাদের নৌশক্তির প্রদর্শন করবে।’

ইরানি বিমানবাহিনীর এই লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরও বলেন, ‘এই ব্রিগেড মূলত সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি এবং সক্ষমতা প্রদর্শনের কাজটি করবে। তাছাড়া আমাদের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক জোরদারও মোহড়াটির অন্যতম উদ্দেশ্য।’

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের স্থায়ী নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে বাহিনীগুলোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে জেনারেল হামিদ ভাহেদি বলেছিলেন, ‘শুধুমাত্র এই অঞ্চলের দেশগুলোই আমাদের জলসীমার কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। যা অন্যদের দ্বারা সম্ভব নয়; সেক্ষেত্রে অন্যরা যদি এমনটা করতে চায় তাহলে আমরাও এর কঠোর হাতে জবাব দিব।’

আরও পড়ুন :- আমরা খুব সহজেই ইরান দখল করতে পারি : ট্রাম্প

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান তাদের সামরিক মহড়াটি এমনই এক সময়ে পরিচালনা করছে; যখন ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর পরিকল্পনা করছে।