হাটে জাল নোট শনাক্তে বুথ স্থাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ 

কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট শনাক্ত করতে বুথ স্থাপনের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তাই নয়, বুথ স্থাপনের পাশাপাশি জাল নোট শনাক্তকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একগুচ্ছ নির্দেশনাও প্রদান করেছে।  

যে সকল হাটে কোরবানির পশু বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, জাল টাকা বা জাল নোট চক্রের অপতত্পরতা রোধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকাসহ দেশের সব এলাকায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে বলেছে। সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে পাঠানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, জাল নোট শনাক্ত করতে প্রতিটি পশুর হাটে (উপজেলা পযন্ত) বাণিজ্যিক  ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। তারা পশু ব্যবসায়ীদের নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা দেবেন। হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ীদের বিনা খরচে নোট যাচাই-সংক্রান্ত এই সেবা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৬ অগাস্টের মধ্যে হাটের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল ফোন নম্বরসহ প্রতিটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল ফোন নম্বর জমা দিতে হবে। সেই কর্মকর্তা হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মনিটর (পরিবীক্ষণ) করবেন। আর ঢাকার বাইরে  যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে স্থানীয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয় বা প্রধান শাখাগুলোকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আর যেসব এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই, এমন জেলাগুলোয় সিটি করপোরেশন,  পৌরসভা ও থানা বা উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংকের চেস্ট (কোষাগার) শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, বুথে যাচাইয়ে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে যথাযথ  ব্যবস্থা নিতে প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের নাম ও তার সঙ্গে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার ও নোটিস প্রদর্শন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংবলিত ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত পোস্টারটি প্রদর্শন করতে হবে। ঈদের আগে পাঁচ কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে আসল ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত ভিডিও চিত্র ব্যাংকের শাখায় পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে।