ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের এ মনোভাবের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ও উগ্র ডানপন্থী নেতা জেইর বলসোনারোর সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। বুধবার (৩১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এমন খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’।

হোয়াইট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘জেইর বলসোনারোর সঙ্গে বর্তমানে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আর এর মাধ্যমেই অঞ্চলটির দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ মধ্যকার বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা খুব শিগগিরই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ব্রাজিলের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত হতে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি দ্রুতই আমরা এর সুফল দেখতে পাব।’

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চুক্তিটির সর্বোচ্চ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেও এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যদিও গত বছর (২০১৮ সালে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর সেই মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর এক ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া তাদের দুজনের এক বিশেষ মিলও আছে। তারা উভয়েই উগ্র ডানপন্থী হিসেবে বেশ সুপরিচিত। গত বছরের অক্টোবরে জেইর বোলসোনারো প্রথম দেশটির ক্ষমতায় আসার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তখন এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প দেশটির সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য অঙ্গীকারও করেছিলেন। যদিও ব্রাজিলের বিরোধী দলগুলোর দাবি, কট্টর ডানপন্থী খ্যাত সাবেক সেনা কর্মকর্তা বোলসোনারোর আকস্মিক উত্থানের ফলে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশটির গণতন্ত্র খুব শিগগিরই এক রকম হুমকির মুখে পড়তে পারে।

নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো বলেছিলেন, ‘আমরা কখনই ব্রাজিলে সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম, পপুলিজম এবং বামপন্থী চরমপন্থার সঙ্গে প্রণয় চালিয়ে যেতে পারি না।’

সেই ভাষণে নিজ দেশকে পুনরায় একটি ‘মহান রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ব্রাজিলিয়ান বন্ধু।