ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতিবেশীকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ

ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতিবেশীকে খুন করেছেন এক নারী। এরপর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যে ওই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীর বাড়িতে যান এলাকারই বাসিন্দা তপন সাউ। সেখানে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তপন। সে সময় সম্মান বাঁচাতে হাতের সামনে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে তপনকে আক্রমণ করেন ওই নারী। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তপন। প্রমাণ লুকাতে স্বামীর সহযোগিতায় তপনের মরদেহ বাড়ির পাশের কলা বাগানে নিয়ে যায় ওই নারী। সেখানেই পুঁতে দেওয়া হয় মরদেহটি। এরপর শুক্রবার স্বাভাবিক ছিল সব কিছু।

শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকেই প্রতিবেশীদের আচরণে অস্বস্তি বাড়তে থাকে ওই নারী ও তার স্বামীর। এরপরই আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন গৃহবধূ। এই প্রেক্ষিতে থানায় গিয়ে গোটা ঘটনার বিবরণ দেন তিনি। এরপর গৃহবধূকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান থানার পুলিশ কর্মকর্তারা।

অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলাবাগানে তল্লাশি চালিয়ে তপন সাউয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। এরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ওই নারীর স্বামী পলাতক রয়েছে।

মৃতব্যক্তির বড় ভাইয়ের দাবি, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে অভিযুক্তের স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তপনের। ফলে তাদের ব্যক্তিগত কোনও ঝামেলা ছিল কি না সে বিষয়ে কিছু জানি না।

আদৌ কি সম্মান বাঁচাতেই খুন? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।