গরু হচ্ছে একমাত্র প্রাণী যে বাতাসে অক্সিজেন ছাড়েঃ উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী

গো-বন্দনায় অতীতের সব লৌকিক কথনের সীমাভেঙে রীতিমত এক অলৌকিক তথ্য দিলেন ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ সিং। বিজ্ঞানের জৈবিক তত্ত্বকে অসাড় করে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, গরু হচ্ছে একমাত্র প্রাণী যে প্রকৃতি থেকে শুধু অক্সিজেন গ্রহণই করে না পাশাপাশি বাতাসে অক্সিজেন ছাড়েও! অর্থাৎ গরু পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমান বৃদ্ধিতে সহায়ক!

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের এই রাজ্য মুখ্যমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত ভাষ্যের একটি ভিডিও চিত্রই এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেরাদুন এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান কালে কেন গো হত্যা রোধ করা উচিত তা বুঝাতে গরুর নানা উপকারী দিকগুলো তুলে ধরেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত। এ সময় গরুর দুধ এবং গোমূত্রে থাকা ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে কথা বলছিলেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে আচমকা এক মন্তব্য করে বসেন তিনি।

রাওয়াত বলেন, গরুই একমাত্র প্রাণী যেটি অক্সিজেন গ্রহণের পাশাপাশি বাতাসে অক্সিজেনের জোগানও দেয়।

তিনি আরো বলেন, গরুর সান্নিধ্যে থাকলে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, গরুর কাছাকাছি থাকলে যক্ষ্মার মতো রোগও নাকি সেরে যায়!

মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি প্রদান করতে গিয়ে তার দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলনই ঘটেছে ত্রিবেন্দ্র রাওয়াতের মন্তব্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এতদিন গরুর দুধের এবং মূত্রের ঔষধি গুণ সম্পর্কে সকলেই ওয়াকিবহাল ছিলেন। পাহাড়ের মানুষরা এটাও বিশ্বাস করেন যে গরু তাদের অক্সিজেন দেয়।’

সম্প্রতি ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে কথিত গো-রক্ষকদের তাণ্ডব এবং গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় প্রাণনাশের মত ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালে ভারতে গরুকেন্দ্রিক সহিংসতায় অন্তত ৪৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।