ভারি বর্ষণে বিপদসীমার ওপরে ১১ নদ-নদীর পানি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে অতি বৃষ্টির কারণে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা। এফএফডব্লিউসির মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, বগুড়া, জামালপুর, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। 

বন্যায় আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে আছে- কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর। নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার ও শেরপুর জেলাও বন্যা আক্রান্ত ছিলো।

এফএফডব্লিউসির মতে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। সংস্থাটির এক বুলেটিনে বলা হয়, ১১ নদ-নদীর পানি ১৯ স্টেশনে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- সুরমা, কুশিয়ারা, তিতাস, ধরলা, তিস্তা, ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, আত্রাই, ধলেশ্বরী ও পদ্মা।

কুড়িগ্রাম, ফুলবাড়ী, চিলমারী ও রৌমারী : ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তাসহ কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে গেছে। নতুন করে ৩শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের টি-বাঁধে আশ্রয় নেয়া মশিউর, কামাল ও আঞ্জুয়ারা বলেন, পরশু দিন পানি নেমে গিয়েছিল। কিন্তু বুধবার থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। তাই সবাই এখানে আশ্রয় নিয়েছি। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এই এলাকা পরিদর্শনে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ও সিনিয়র সচিব শাহ কামাল।

লালমনিরহাট: মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার মানুষ। বৃহস্পতিবার ভোরে বন্যার পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উত্তর পারুলিয়া এলাকায় কাঁচা রাস্তার প্রায় ১০০ মিটার ভেঙে যায়। এতে জেলার ২৭টি ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

গাইবান্ধা: বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় মানুষ যখন তাদের ঘরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক সেই সময়ে নতুন করে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে।

যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গিয়েছিল সেসব এলাকার ঘরবাড়িতে নতুন করে পানি ঢুকে পড়েছে। এদিকে ১৬ জুলাই গাইবান্ধার আপ স্টেশন ত্রিমোহিনী-বোনারপাড়া পর্যন্ত রেলপথ বন্যার পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় ওই পথে সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনার ১০ দিন পরও বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এ পথে  চলাচলকারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর (জামালপুর) : বন্যার পানি কিছুটা কমতেই ইসলামপুরে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না বন্যার্তরা। বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রংপুর ও কাউনিয়া: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, বন্যা শুরু হওয়ার আগে চাল, শুকনা খাবার, নগদ টাকা এবং তাঁবু দেয়া হয়েছে। যাতে বন্যার্ত কাউকে খোলা আকাশের নিচে থাকতে না হয় সেজন্য প্রত্যেক বন্যাদুর্গত জেলার জন্য ৫০০টি করে তাঁবু পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যা মোকাবেলায় শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল): ভূঞাপুর উপজেলার বন্যাকবলিত ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৫০টি গ্রামে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে কাজ করছে ১০টি মেডিকেল টিম। এসব টিমের সদস্যরা এ পর্যন্ত ২৫ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে ৯০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ১০ হাজার খাবার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে।

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর): উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত ৬শ’ পরিবারের মাঝে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

শিবচর (মাদারীপুর): উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই চাল ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ হচ্ছে দুর্গত এলাকায়।

বৃহস্পতিবার শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৫শ’ দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এর আগে দেড় হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

শেরপুর: জেলার চরাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনও অধিকাংশ ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।