ছেলেধরা সন্দেহে কাউকে মারধর না করার জন্য পুলিশের মাইকিং!

বান্দরবানে ছেলে ধরা সন্দেহে অপরিচিত কাউকে মারধর না করে পুলিশে খবর দেয়ার জন্য শহরে মাইকিং করা হয়েছে। শনিবার বিকাল থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়।

এদিকে ছেলেধরা সন্দেহে শনিবার দুপুরে শহরের হাফেজঘোনা এলাকায় আবারও এক মহিলাকে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিলাটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত মহিলার নাম মাসুদা (৪১) সে নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার কুর্পেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে ১১ টার দিকে হাফেজ ঘোনা বাসস্টেশন এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখলে এলাকার মানুষ তাকে ধরে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে মহিলাটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জানা গেছে মহিলাটি নারয়নগঞ্জ সদর উপজেলার কুর্পেরচর গ্রামের বাসিন্দা তার পিতার নাম আক্কেল আলি। সে আজ সকালে ঢাকা থেকে বান্দরবান আসে। সকালে সে হাফেজঘোনা বাসস্টেশন এলাকায় ঘোরাঘুরি করার সময় অপরিচিতি মহিলা দেখে এলাকাবাসী তাকে ধরে মারধর শুরু করে এসময় সে তার জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বিভিন্ন গার্মেন্টস এর পরিচয় পত্র দেখায় কিন্তু তাতেও রেহাই পায়নি এলাকাবাসীর হাত থেকে।

এদিকে মহিলাটি বলেন আমি এখানে ঘুরতে এসেছি কিছু চিনি না তাই এখানে এসেছি কিন্তু এলাকার লোকজন আমাকে ছেলেধরা মনে করে মারধর শুরু করে আমি তাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ আইডিকার্ড দেখিয়েছি তাও তারা বিশ্বাস করেনি। হাফেজঘোনার বাসিন্দা বসর বলেন মহিলাটি সকালে স্কুলের সামনে দাড়িয়ে ছিল সেখান থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এরপর সে এলাকার মধ্যে ঘোরাঘুরি করছিল। অপরিচিত একটি মহিলা এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল তাই এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। আর সে এতদুর থেকে এখানে এসেছে সে যদি পর্যটক হয় তাহলে সে পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরবে এলাকার মধ্যে কেন ঘুরবে। তার ঘোরাফেরা সন্দেহজনক ছিল তাই তাকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন আটককৃত মহিলাটি মানসিক ভারসাম্যহীন। আমরা তার গ্রামের বাড়ীতে খবর নিয়েছি তার এলাকার লোকজনও বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে চট্টগ্রাম মুরাদপুরে মানুষের বাসায় কাজ করত। সেখান থেকে সে বান্দবানে চলে এসেছে। তবে এলাকার মানুষদের আমরা বলেছি তারা যাতে আইন হাতে তুলে না নেয় সন্দেহজনক কাউকে দেখলে যাতে পুলিশে খবর দেয়। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং ও করা হচ্ছে। যেহেতু বান্দরবান পর্যটন এলাকা এখানে অনেকে ঘুরতে আসে তাই। যদি কাউকে সন্দেহ হয় তাহলে তাকে মারধর না করে পুলিশে খবর দেয়ার জন্য আহবানও জানান তিনি।

উল্লেখ্য গতকাল শুক্রবার বালাঘাটা লেমুঝিরি আগা পাড়া এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে রোহিঙ্গা এক নারীকে গনপিটুনি দেয় এলাকাবাসী পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি