বান্দরবানে গ্রামীননেটের ভোগান্তিতে হাজারো গ্রাহকরা

বান্দরবানে দূর্যোগকালীন মুহুর্তে গ্রামীন ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো গ্রাহক। টানা ১০ দিনের ভারী বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রামীন ফোনের গ্রাহকরা।

রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল কোম্পানীর নেটওয়ার্ক থাকলেও গত শনিবার থেকে টানা ৪ দিন ধরে গ্রামীণ ফোনের নেট ওয়ার্ক না থাকায় সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে বন্যা দূর্গত বান্দরবান এলাকার লোকজন। এতে দূর্যোগ মুহুর্তে আপনজনদের সাথে জরুরী প্রয়োজনে খবরাখবর নিতে পারেনি কেউ। এমনকি সরকারী অনেক প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম্বার গ্রামীন ফোনের হওয়ায় দূর্যোগের সময় তাদের সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দূর্যোগপূর্ন পরিস্থতিতে মানুষ কষ্ট করে মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে চালু রাখলেও নেট ওয়ার্ক না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। অনেকে বাধ্য হয়ে দূর্যোগ মুহুর্তে অন্য অপারেটরের সিম ক্রয় করে ব্যবহার করেছেন। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পড়েছে চরম বিপাকে। দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়া থাকায় অনেকে বেশী করে এমবি রিচার্জ করে রাখলেও নেট ওয়ার্ক না থাকায় তা ব্যবহার করতে পারেনি।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় প্রায় ৫ হাজার গ্রামীন ফোনের গ্রাহক রয়েছে। যারা কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গ্রামীণ ফোনের সিম ব্যবহার করে। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বেশিরভাগ কর্মকর্তারা গ্রামীন ফোনের সীম ব্যবহার করায় দূর্যোগকালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এমন দূর্যোগপূর্ন পরিস্থিতিতে গ্রামীন ফোনের নেট না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সাংবাদিক ওমর ফারুক বলেন গ্রামীন দেশের এক নাম্বার নেট ওয়ার্ক দাবী করলেও এমন একটি দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ায় ৩ দিন ধরে নেট বন্ধ রেখে গ্রাহকদের কষ্ট দেয়াটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। আমার অন্য সীম ছিল বলে আমি কোন রকম রক্ষা পেয়েছি, কিন্তু যাদের শুধুমাত্র একটি সীম তারা তিন দিন ধরে নেটওয়ার্কের বাইরে তাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়াও পাহাড়ী অনেক জায়গা আছে যেখানে শুধু গ্রামীন ফোনের নেট ওয়ার্ক রয়েছে সেখানকার মানুষজন একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া এমন দূর্যোগে মানুষজন পানি বন্দী হয়ে ঘর থেকেও বের হতে পারছে না মোবাইলের যোগাযোগটাই একমাত্র মাধ্যম ছিল। তাই গ্রামীনের নেট না থাকায় মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। ডাক্তার রনি কর্মকার বলেন, মানুষ গ্রামীনের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এমন একটি দূর্যোগের সময় মোবাইল নেট টা খুবই জরুরী। অন্যান্য কোম্পানীর নেট চালু থাকলেও গ্রামীন ফোনের মত নাম করা একটি কোম্পানীর নেট দূর্যোগের সময় না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা। এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা শুধুমাত্র গ্রামীনের সীম ব্যবহার করে নেট না থাকায় তিন দিন ধরে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। আপন জনের খবরাখবর নিতে পারিনি। এক দিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ অন্য দিকে নেট না থাকায় সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে সাধারন মানুষ।

বান্দরবান গ্রামীণ ফোন কাস্টমার সেন্টারের ম্যানেজার আজাহারুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমাদের টিএন্ডটি পাড়া এলাকায় রাউটারে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গত রবিবার থেকে বান্দরবানে গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক ডুবে যাওয়ায় জেনারেটর নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। দূর্যোগ মুহুর্তে আমাদের আইপিএস এর বেকআপও শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বচল না থাকায় বান্দরবান জেলায় গ্রামীণের নেট বন্ধ ছিল। তবে দুই একদিনের মধ্যে নেট স্বচল করা হবে। তবে গ্রাহকের ভোগান্তির ব্যাপারে বান্দরবানের দায়িত্বে থাকা গ্রামীণ ফোনের এরিয়া ম্যানেজার সুমন চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সদত্তোর না দিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

 

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি