কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা

ঈদুল আযহা’কে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু খামারিরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে গরুর পরিচর্যা ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন খামারি ও কৃষকরা।

ঈদে দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় খামারের পাশাপাশি গরু মোটাতাজা করছেন জেলার অনেক কৃষক। তকে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং গতবার লাভ কিছুটা কম হাওয়ায় এবার খামারে গরু পালন কমেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় ২০হাজার ১১০টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ৮০ হাজার ১৩৯টি গরু, ৬৪ হাজার ১৮২টি ছাগল এবং ৩ হাজার ১২১টি ভেড়া মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের গরু খামারি সোহেল মাহমুদ বলেন, এই এলাকায় বেশির ভাগ খামারীরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ঘাস খড়ের পাশাপাশি খৈল গুড়া, ভূষি খাওয়ানো হচ্ছে। তাছাড়াও ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় খামারিদের পাশাপাশি অনেক কৃষক পরিবারে গরু মোটাতাজা করেছে।

তিনি আরও আরও বলেন, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে গরুতে লাভ কিছুটা কমে গেছে। গতবার ৪টি গরু বিক্রি করে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ হয়েছিলো। এবছর কোরবানি উপলক্ষে ৭টি গরু মোটাতাজা করছি। আশা করি এবারোভালো দাম পাব।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার কৃষক সলিম হোসেন জানান, গত বছর তিনটি গরুতে প্রায় বিশ হাজার টাকা লেকসান হয়েছে। গরু তিনটি উৎপাদনে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করতে হয়েছে দেড় লাখ টাকায়। গত ঈদের শেষ মূহুর্তে গরুর দাম কমে যাওয়ায় এই লোকসান গুণতে হয়। গরু উৎপাদন করে লাভতো দূরের কথা প্রতি বছরই লস হচ্ছে। তাই এবছর কোন গরু উৎপাদন করেনি।

একই অভিযোগ উজান গ্রামের কৃষক রজব মন্ডলের। তিনি জানান, ‘বর্তমানে একটি গরু উৎপাদন করতে যে খচর হচ্ছে, বিক্রি করলে সেই টাকা উঠানো যাচ্ছে না। কয়েক বছরে গরুর সব খাবারের দাম দ্বিগুণ হলেও গরুর দাম তেমন বাড়েনি। তাই এবার তার বাড়িতে কোন গরু নেই।’

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাজী ফার্মসের মালিক কাজী শওকত জানান, ‘গত ঈদে তার খামারে পশু ছিল ১৮০টি। এবার উৎপাদন কমে পশু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০টি। এরমধ্যে ৬টি সাদা মহিষ এবং ৪০টির মত ছোট ভুটানি গরু রয়েছে। বাঁকি সব দেশি গরু।’

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, ‘কোরবানির ঈদকে সামনে  রেখে প্রতিটি উপজেলায় আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতি উপজেলায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুইটি হাটে এই মেডিকেল টিম কাজ করবে। পশুর রোগ প্রতিশোধক ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত রয়েছে। খামারি এবং কৃষকদের মাঝে চাহিদামত তা ব্যবহার করা হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘কুষ্টিয়াতে এখন গরু মোটাজাতাকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয় না। আমরা গ্রামের প্রত্যন্ত মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণে সারা বছর প্রশিক্ষন দিয়ে যাচ্ছি। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনা ও লিফলেট বিলি করে আসছি।’