সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত

ইউনেস্কো’র বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নাম উঠছে না সুন্দরবনের। কমিটির ৪৩ তম সভায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

আজারবাইজানের বাকুতে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।এদিন ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ২১ সদস্য বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটিতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে।

কমিটিতে সুন্দরবন সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়। কমিটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনকে স্বাগত জানান।

সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ, বনের ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচলসহ বিভিন্ন কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে, দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ জানিয়ে আসছিল জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত সংস্থাটি। একারণে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এ বিষয়ে শুনানি ছিল আজ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে। আলোচনাকালে পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবকারী কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন ছাড়াও আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, বুরকিনাফাসো, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতসহ ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র সরাসরি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে।

কমিটি সদস্য রাষ্ট্রগুলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনকে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র তাদের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দেবে। এছাড়াও বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ অবস্থা জানাতে প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী কমিটির সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমান কমিটির উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় গৃহীত এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর প্রতি সমর্থন জানালো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি।

একইসঙ্গে কমিটির সদস্যরা পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানিয়েছেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। সুন্দরবনকে বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে কমিটিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

ইউনেস্কোর সভা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ৩০ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।