গাজীপুরের স্পিনিং কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, স্বজনদের আহাজারি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্পিনিং কারখানায় প্রতিদিনের মতো কাজ করতে গিয়েছিলেন শ্রমিকরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! আর জীবিত ফেরা হলো না তাদের। ভয়াল অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মরতে হলো।

স্পিনিং কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে আগুন লাগার পর থেকেই সেখানে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে স্পিনিং কারখানায় আশপাশের এলাকা।

বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার উলুন গ্রামের আলালউদ্দিনের ছেলে রাসেল (৪৫), শ্রীপুর উপজেলার দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩২), গাজীপুর গ্রামের মো. হাসেন আলীর ছেলে শাহ জালাল (২৫), কালিয়াকৈর উপজেলার মৃত শামসুল হকের ছেলে টেক্সটাইল ইঞ্জি. সেলিম কবির (৪২), ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুবনকোড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আবীর রায়হান (২১) ও পাবনা জেলার আমীনপুর উপজেলার মৃত কেরামত সর্দারের ছেলে সুজন (৩০)।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকার অটো স্পিনিং কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কারখানার ব্যাক প্রসেসিং ইউনিটে (তুলা উৎপাদনের প্রাথমিক ইউনিট) আগুনের সূত্রপাত ও পরে তা বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, পুড়ে যাওয়া কারখানায় মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিনটি ও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুটি লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এর আগে আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর আহত একজনকে হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের স্বজন ও সহকর্মীদের দাবি, আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এগুলো উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা এখন ৬।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীনুর ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- পরিচালক শিল্প পুলিশ গাজীপুরের প্রতিনিধি (উপপরিচালক পদমর্যাদার), জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, শ্রীপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গাজীপুরের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক। তাদের আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্য তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।