মঞ্জুর শাহরিয়ারের ফের অ্যাকশন, আগোরা-স্বপ্ন-মিনা বাজারকে জরিমানা

বেশি দামে পণ্য বিক্রি, মোড়কে খুচরা মূল্য ও উৎপাদনের তারিখ না থাকায় অভিজাত চেইন সুপার শপ আগোরা, মিনা বাজার ও স্বপ্নকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সোমবার রাজধানীর রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মাসুম আরেফিন এবং আফরোজা রহমান এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, আজ রমনা এলাকায় সুপার শপগুলোতে বাজার তদারকি পরিচালনা করা হয়। এ সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে পণ্য বিক্রি, পণ্যের মোড়কে খুচরা মূল্য ও উৎপাদনের তারিখ না থাকায় আগোরা, মিনা বাজার ও স্বপ্ন সুপার শপকে ৪০ হাজার টাকা করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-১১ এর সদস্যরা।

এর আগে গত ৩ জুন মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ভোক্তা অধিদফতর থেকে বদলি করে তাকে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, খুলনা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়।

নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অভিযোগে অফিসার্স ক্লাব ও পাঞ্জাবির দাম বেশি নেয়ায় আড়ংকে জরিমানা করায় এ বদলি করা হয় বলে গুঞ্জন উঠে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

এর পরদিনই ৪ জুন বদলি আদেশটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে ১২ জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে তাৎক্ষণিক বদলির ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমার কাছে সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না।

আড়ংয়ের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোজার সময় যদিও আমি দেশের বাইরে ছিলাম, তখনও বেশ কিছু বড় বড় জায়গায় হাত দিল বলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হঠাৎ একটা ব্যবস্থা নেয়া হলো। আমার কাছে সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না।

তিনি বলেন, সাধারণ ছোট-খাটোদের ধরতে পারবে, আর বড় অর্থশালী সম্পদশালী হলেই তাদের হাত দেয়া যাবে না, তাদের অপরাধ অপরাধ না- এটাতো হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমি আজকেই বলে দিচ্ছি তাকে (মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার) ওই দায়িত্বই দিতে হবে। কারণ খুব দামি দামি জায়গা, তাদের যে খারাপ কিছু থাকবে না বা হবে না যারা ওগুলোর মালিক তারাও তো এই গ্যারান্টি দিতে পারেন না।

সেখানে কেন পরীক্ষা করতে পারবে না, পরীক্ষা করার অধিকারটা কেন থাকবে না? অপরাধী সে অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন বড় বড় জায়গা আছে যেখানে হাত দিলেই দেখা যায় হাতটা পুড়ে যাচ্ছে এবং যারা এই কাজটি করতে যায় তারা অপরাধী হয়ে যায়।