আমার না জানিয়েই রিফাতের দাফন সম্পন্ন হয়ঃ মিন্নি
সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করছে অন্যদিকে স্ত্রী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বরগুনার রিফাত শরীফের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ছড়িয়ে পরা এমন ভিডিওটি তীব্র আলোচনার জন্ম দেয় সারাদেশে।
প্রথম দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির এই সাহসী প্রচেষ্টাকে সবাই প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখলেও কয়েক ঘণ্টা পরই উল্টো সমালোচনাও শুরু হয় স্বামী হারানো শোকে বিপর্যস্ত মিন্নিকে ঘিরে। এমনকি নিহত রিফাতের বন্ধুদের কেউ কেউ মিন্নিকে নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে স্বামীর কবরে মাটি দিতে না পারার আক্ষেপ জানিয়েছেন মিন্নি।
স্ত্রী মিন্নিকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদের জের ধরে খুন হন স্বামী রিফাত শরীফ। ঘাতক নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তাদের গ্যাং এর আক্রমন থেকে স্বামীকে বাঁচাতে লড়েছিলেন মিন্নি। তার এই সাহসী কর্মকাণ্ডের প্রশংসা হলেও কেউ কেউ তাকে ‘ভিলেন’ বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বার্তা দেয়। বরগুনার প্রভাবশালী একটি মহলেও মিন্নিকে ঘিরে বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করে। বরগুনার সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা সুমন দেবনাথ মিন্নিকে ‘মূল ভিলেন’ হিসেবে ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক স্ট্যাটাস দেন। এমনকি নিহত রিফাতের বন্ধুরাও ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্নির উপর আক্রমনের চেষ্টা চালায়।
গণমাধ্যমকে মিন্নি বলেন, ‘ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে দেখি রিফাত এখানে নেই। তাকে বরিশাল হাসপাতালে (শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। রিফাত মারা যাওয়ার পর বিকেলে লাশ দেখতে শ্বশুর বাড়ি গেলে রিফাতের বন্ধুরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।’
মিন্নি বলেন, ‘আমি শ্বশুর বাড়ি যাই তখন রিফাতের বন্ধুরা গালাগাল করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার দিকে তেড়ে আসে। একপর্যায়ে আমি আমার চাচাশ্বশুরের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেই। আমার অগোচরেই রিফাতের দাফন সম্পন্ন হয়। আমি শেষ দেখাটাও দেখতে পারিনি। এমনকি আমাকে ওর কবরে মাটি পর্যন্ত দিতে দেয়নি।’