সমুদ্রতলে মজুদ থাকা গ্যাস ‍উত্তোলনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সমুদ্রতলে মজুদ থাকা গ্যাস ‍উত্তোলনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার টোকিওতে জাপান ও বাংলাদেশের পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-জাপানের বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘কৌশলগত সম্পর্কে’ উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সমুদ্র থেকে গ্যাস তোলার বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ মানবসম্পদ নিতে জাপানকে অনুরোধ করেছেন তিনি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়ন একাডেমি করারও প্রস্তাব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে শিনজো আবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে জানান শহীদুল হক।

তিনি বলেন, মুজিব বর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ২০২০ সালে বাংলাদেশ সফরের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আবে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

২০২২ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাপানকে সমর্থন দেবে বলে জানান শহীদুল হক। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ জাপানে চার দিনের সফরে মঙ্গলবার রাজধানী টোকিওতে এসেছেন শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকাল পৌঁনে ৬টার দিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান শিনজো আবে। এ সময় সুসজ্জিত একটি দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়। দুই দেশের নীতিনির্ধারক ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক প্রমুখ।

গত জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনার এটাই প্রথম জাপান সফর।

বৃহস্পতিবার ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ সম্মেলনে তিনি এশিয়ার সম্ভাবনা ও উত্থান নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরবেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও তাত্ত্বিকদের সামনে।