নির্মুলচরে মরা ডাল কাটার টেন্ডার নিয়ে তাজা গাছ কেটে সাবাড়

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী নির্মুলচরে অবস্থিত বনে ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ ও গাছের মরা ডালপালার টেন্ডার দেয়া হলেও বনকর্মকর্তার সহায়তায় গাছ কেটে নিয়েছে ঠিকাদার। এ ঘটনায় ঠিকাদারের প্রতিনিধি জাকির (৪৮) গ্রেফতার হলেও মুচলেকা দিয়ে ছাড় পান।

প্রেমতলী নির্মুলচরে অবস্থিত বনের ঝড়ে পড়ে যাওয়া নম্বরকৃত গাছ ও ডাল ১০৬ নং গ্রুপে টেন্ডার দেওয়া হয়। ওই টেন্ডারের ভিত্তিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ২ হাজার ৯৩৩.৪০ ঘনফুট কাঠ (জ্বালানি) অপসারণের জন্য নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের মেসার্স নাজিম স-মিল মালিক নাজিমুদ্দিনকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০ মে তারিখের আগে থেকেই ঠিকাদারের লোকজন উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে বনের তাজা ও মোটা গাছগুলো কাটতে শুরু করে। শুক্রবার পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক্টর বনের গাছ কেটে নিয়ে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী বুঝতে পারে টেন্ডারের নামে ঠিকাদার, উপজেলা বন কর্মকর্তা ও পাহারাদারসহ স্থানীয় কয়েকজন যোগসাজস করে টেন্ডারের কৌশলে বনের তাজা গাছ কেটে উধাও করে দিচ্ছে। তখন  তারা বাধা প্রদান করে।

বিষয়টি ব্যাপক জানাজানি হলে শনিবার নওগাঁ জেলার সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী জামান, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার ও বন বিভাগের জেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সত্যতা পায়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঠিকাদারের প্রতিনিধি জাকিরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত জাকির পরির্দশন কর্মকর্তাদের সামনে স্বীকারোক্তি দেন- টেন্ডারের বাইরে গাছ কাটা হয়েছে।

ফরাদপুর গ্রামের সুবিধাভোগী আব্দুল ওহাবসহ (৫৬) কয়েক জন সুবিধাভোগীর অভিযোগ,  পাহারাদার জিল্লুর রহমান, আশরাফ, শরিফুল ও উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন যোগসাজশ করে টেন্ডার কৌশলে বনের গাছ কেটেছে। শুধু তাই নয় এরা বনের মাটিতে লাগানো ফসল, খড়, গাছের ডালও বাইরে বিক্রি করে দেয় প্রতি বছর।

শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৬ ইং সালে টেন্ডার দেওয়ার সময় নম্বরকৃত কোন গাছ দেখা যায়নি। ওয়ার্ক অর্ডারের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে গাছ কেটেছে তা একটাও নম্বরকৃত গাছ না। এ ছাড়াও বনের মধ্যে গাছ কেটে ট্রাক বা ট্রাক্টর যাওয়ার রাস্তা করে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এত বনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হয়েছে।

 এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম টেন্ডারের বাইরেও গাছ ও বনের গাছ কেটে রাস্তা করার কথা স্বীকার করেন।

জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত জাকির স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরিদর্শনে গিয়ে অতিরিক্ত গাছ কাটর প্রমান মিলেছে ও কোন গাছের নম্বর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা নওগাঁ সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রবিবার নির্মলচরের বন পরিদর্শন করে এসেছি আর ডাল পালার বদলে গাছ কাটার তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ পেলে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।