জনমনে প্রশ্ন, ১০ বস্তা সরকারি ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে রাখলো কে?

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাটি চাপা দেয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি ঔষুধ ও ব্যান্ডেজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বৃষ্টির পানির চাপে ভেসে উঠে। শনিবার (২৫ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেফটিক ট্যাংকির ধারে এ দৃশ্য সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে। পরে তারা তা উদ্ধার করে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এই ওষুধ কে পুতে রাখলো?

এ ঘতনায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেখানে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডা. কামরুজ্জামাকে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রেভিনিউ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা সদর ইউএনও, পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধি ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধি।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্টের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে সদর থানায় পৃথক একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের পর ঘটনাস্থল থেকে ওষুধের কিছু নমুনা আমরা সংগ্রহে রেখেছি। ওষুধগুলোর মেয়াদ রয়েছে। কমপক্ষে ১০ বস্তা সরকারি ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুঁয়ে ওষুধগুলো বেরিয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দৃষ্টিতে আসে সবার। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

এ ঘটনায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী বলেন, শনিবার অফিস শেষে বাসায় ফেরার পর ঘটনাটি আমি জানতে পারি। রবিবার অফিসে এসে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাতদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওষুধগুলো মাটির নিচে কিভাবে গেলো? ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে আমার দায়িত্বকালীন সময়ে কোনো ওষুধ খোয়া যায়নি। এছাড়া মাটির নিচে পাওয়া ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।