নিরঙ্কুশ বিজয়ে মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে ভারতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতে সরকার গঠন করতে যাওয়া নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই জোরালো রায়ে আপনার ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।’ সুবিধাজনক সময়ে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে আপনার গতিশীল নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) বিপুল বিজয়ে আমি বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং নিজের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, যা পারস্পরিক সুনাম, আস্থা এবং শ্রদ্ধাবোধের দ্বারা চলে আসছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণ আমাদেরকে নতুন করে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।’

ওই বার্তায় শেখ হাসিনা ভারতের জনগণের শান্তি, সুখ এবং উন্নতি কামনা করার পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির সুস্বাস্থ্যও কামনা করেন।

শুভেচ্ছা জানানোর এই তালিকায় রয়েছে, ইসরায়েল, চীন, রাশিয়া, ভূটান, শ্রীলঙ্কা-সহ আরো অনেক দেশ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু টুইটে শুভেচ্ছা জানান নরেন্দ্র মোদিকে। তিনি বলেন, ভারত এবং ইসরায়েলের মধ্যে বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

টুইটে তিনি বলেন, বন্ধু নরেন্দ্র মোদি, চিত্তাকর্ষক এই জয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে এটা আপনার যোগ্যতার পরীক্ষার ফল। আমরা ইসরায়েল এবং ভারতের দ্বিপাক্ষিক গভীর বন্ধুত্বকে আরো শক্তিশালী করবো। ভালো করেছো বন্ধু।

নির্বাচনী ফলাফলে এগিয়ে থাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক টেলিগ্রাম বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চিরবৈরী প্রতিবেশী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক শুভেচ্ছা বার্তায় মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগয়েল ওয়াংচুক ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদিকে। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এক টুইটে বলেন, বিশাল জয়ের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা। আগামী দিনে একসঙ্গে কাজ করার দিকে তাকিয়ে রয়েছি আমরা।

শুভেচ্ছা জানানোর তালিকায় রয়েছেন স্বয়ং দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে হার মেনে নিয়েছেন।

নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী দলীয় অবস্থান জানাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এ হার মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। কংগ্রেসের এই সভাপতি বলেন, এটা জনগণের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, জনগণ পরিষ্কারভাবে তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি, জনতাই মালিক।

গতবারের নির্বাচনের (২০১৪ সালের) চেয়ে এবার বিধ্বংসী রূপে জয়ী হতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি। দেশটির জাতীয় এই নির্বাচনে তিন শতাধিক আসনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে হিন্দুত্ববাদী এই রাজনৈতিক দল।

৫৪২ আসনের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩৪২ আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেয়েছে ৯১ আসন। বিজেপি একাই ৩০০’র বেশি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালে বিজেপি ২৮২ আসনে জয় পেয়েছিল, জোটসঙ্গীদের নিয়ে দলটির আসন দাঁড়িয়েছিল ৩৩৬।

গত তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকার গঠন করছে। বিজেপির বিশাল ব্যবধানের এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে একটি টুইট করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, আবারও ভারত জিতেছে।

ভূমিধস এই জয়ের পর টুইটে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমরা একসঙ্গে লড়বো। একসঙ্গে সমৃদ্ধ হবো। আমরা একত্রে শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত গড়বো। ভারত আবারও জয়ী হয়েছে। বিজয় ভারত।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৯ মে মোট সাত ধাপে লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মোট ভোটার ছিল প্রায় ৯০ কোটি। এক হাজার ৮৪১টি রাজনৈতিক দলের আট হাজারেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭২০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী ছিলেন চারজন। ১৯৫১-৫২ সালে ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতে সময় লেগেছিল তিন মাস।

কৃষকের ধান কাটতে এবার মুন্সিগঞ্জ গেলেন শোভন-রাব্বানি

এবার ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কাটলেন

এবার কৃষকের ক্ষেতের ধান কাটতে একসঙ্গে মাঠে নামলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের এ দুই নেতা মুন্সীগঞ্জের একটি কৃষিক্ষেতে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কাটতে নামেন।

সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, ছাত্রলীগ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কাজ করার প্রতি উৎসাহ বাড়িয়ে দেবে এবং কৃষির গুরুত্ব উপস্থাপিত হবে।

এসব বিষয়ে ফেসবুকে হাস্যরস নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আপনি ভালো কাজ করলেও সমালোচকরা সমালোচনা খুঁজে বের করবে। আমরা এখানে এসেছি আমাদের সংগঠনের নেতা কর্মীদের উৎসাহিত করতে যাতে তারা কৃষকদের সহায়তা করে। আমরাও কৃষকদের সঙ্গে রয়েছি।

এর আগে বুধবার গোলাম রাব্বানী নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভারে একটি ক্ষেতের গিয়ে কৃষকের ধান কেটে দেন।