অগ্রিম টিকিট পেতে কমলাপুর রেলস্টেশন কাউন্টারে উপচেপড়া ভিড়

ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য রেলওয়ের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ পাঁচটি স্থান থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ফলে কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আজ বুধবার সকাল ৯টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। অগ্রিম টিকিট পেতে কমলাপুর রেলস্টেশন কাউন্টারে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কাউন্টার চত্বর ছাপিয়ে টিকিটপ্রত্যাশীদের দীর্ঘলাইন পাশের সড়ক পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। আজ ৩১ মের টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

নীলসাগর ট্রেনের টিকিট পেতে গত রাত থেকে স্টেশনে অপেক্ষমান কামাল খান বলেন, সড়কপথের যানজট এড়াতে ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছি। রাত এখানেই কাটিয়েছি। এখন সোনার হরিণ টিকিটি পেলেই হয়।

রেলভবন ও কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে জানা যায়, বুধবার ৫ দিনব্যাপী ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়।

রাজধানীর ৫টি স্থান ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে সকাল ৯টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর ঢাকার একজন সংসদ সদস্য একাই দুটি ডিও লেটারের মাধ্যমে ৮৩ টিকিটের চাহিদাপত্র দিয়েছেন।

অপর এক সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছেন ৫৭টি টিকিটের জন্য।

রেলওয়েতে ঈদের সময় কিংবা অন্য সময় ‘ভিআইপি কোটা’র নামে ৫ থেকে ১০ শতাংশ টিকিট বরাদ্দ ছিল। কোটার ওই টিকিট রেখে দেয়া হতো।

পরে তা ইচ্ছামতো যাকে খুশি তাকে দেয়া হতো। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছরের এ প্রথা ভেঙে দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। আর এতে খুশি সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে আজ থেকে ৫ দিনব্যাপী ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। আজ ৩১ মের টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

আজ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত (৫ দিনব্যাপী) ঢাকার কমলাপুর, বিমানবন্দর তেজগাঁও, বনানী, পুরনো ফুলবাড়িয়া ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিক্রি হবে। কাউন্টারে অগ্রিম ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হবে।

বাকি ৫০ শতাংশ ই-টিকিটে বিক্রি হবে। কাউন্টার এবং ইন্টারনেটে একই সময়ে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইন্টারনেটে টিকিট বিক্রি না হলে সেসব টিকিট কাউন্টারে চলে আসবে। কাউন্টার থেকে সাধারণ যাত্রীরা সেই টিকিট কাটতে পারবেন।

আজ ৩১ মে’র অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কাল ২৩ জুন বিক্রি হবে ১ জুলাইয়ের টিকিট, একইভাবে ২৪ জুনের টিকিট ২ জুলাই, ২৫ জুনের টিকিট ৩ জুলাই এবং ২৬ জুনের টিকিট ৪ জুলাই বিক্রি হবে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেয়া হবে, ঢাকা থেকে রাজশাহী, খুলনা, পঞ্চগড়, চিলাহাটি, রংপুর, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ ও ঈশ্বরদীগামী ট্রেনের টিকিট।

বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে বিক্রি হবে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ট্রেনের টিকিট।

তেজগাঁও রেলস্টেশন থেকে বিক্রি হবে ঢাকা থেকে তারাকান্দি, দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুরগামী ট্রেনের টিকিট। বনানী স্টেশনে থেকে দেয়া হবে, ঢাকা থেকে নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া পুরনো রেলস্টেশন থেকে দেয়া হবে ঢাকা থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট।