নিম্নমানের ৫২ পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার সময় শেষ

বিএসটিআই পরীক্ষিত নিম্নমানের ৫২ পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার সময় শেষ হচ্ছে । জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কোম্পানিগুলোকে এই সময় নির্ধারণ করে দেয়। এর আগে গত ১২ই মে ওই ৫২ ভোগ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার আদেশ দেন হাইকোর্ট। ৫২টি পণ্যের মধ্যে দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি ব্রান্ডের লবণ, মসলা এবং তেল রয়েছে।

চলতি মাসের দুই তারিখ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএসটিআই এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয় রমজানকে সামনে রেখে বিএসটিআই বাজার থেকে ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্য পরীক্ষার করে দেখা গেছে ৫২টি পণ্যই নিম্নমানের।

বিএসটিআই এর পরীক্ষায় এসিআইয়ের লবণ মসলাসহ কয়েকটি পণ্য নিম্নমানের বলে প্রমাণিত হয়েছে।  এবিষয়ে এসিআই কনস্যুমারস ব্রান্ডের একজন পরিচালক কামরুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, আমাদের লবণের একটি ব্যাচে সমস্যা ছিল, সেটা আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এক ব্যাচে সাধারণত এক লাখ কেজি পণ্য থাকে, এটা ফেব্রুয়ারি মাসের লবণ ছিল। লবণ খুব ‘ফাষ্ট মুভিং’ পণ্য, বেশির ভাগ বিক্রি হয়ে গেছে, আমরা বাজারে খুব অল্পই পেয়েছি, যা পেয়েছি তুলে নিয়েছি। আর মসলা আমাদের খুবই কম বিক্রি হয়, সেটাও কমই ছিল।

এদিকে আজকের মধ্যে যদি এসব পণ্য কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরিয়ে নেয়া না হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে, এসম্পর্কে  সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য আইন আছে ২০১৩ সালের। এর অধীনে খাবারের মান নিম্ন হলে কিংবা খাদ্যে ভেজাল থাকলে, তার জন্য শাস্তির বিধান আছে। ভেজালের জন্য ধরন অনুযায়ী তিন থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া যথাসময়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা না মানলে যে আইনানুগ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে তা এসব আইনের অধীনেই হবে। এছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনেও খাদ্যে ভেজালের শাস্তি হতে পারে, সেখানে মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।