আগুনে পুড়ে ছাই কলসিন্দুর স্কুলের মেয়েদের মেডেল-সনদ

যে স্কুলের হাত ধরে নারী ফুটবলে এতো অর্জন সেই ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস কক্ষ আগুন দিয়ে পুড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকালে স্কুল খোলার পর অফিস কক্ষের এমন অবস্থা দেখা যায়। কে বা কারা এই অগ্নিসংযোগ করেছে তা এখনও জানা যায়নি। এ আগুনে পুড়ে গেছে স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, নারী ফুটবলারদের সনদ ও মেডেল।

প্রতিদিনের মতো স্কুলের প্রধান ফটক তালা লাগানো ছিল। ৫ মে থেকে স্কুলে রমজানের ছুটি চলছে। তবে, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেয়ার জন্য স্কুল খোলা হতো।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সকালে স্কুলের অফিসকক্ষ খোলার পর টেবিলের উপর কাগজপত্র পোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পুড়ে গেছে স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, একটি কম্পিউটারের একটা বিশেষ অংশ ও মেঝেতে পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায় মেয়েদের মেডেল ও সনদপত্র।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানার পুলিশ ও হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুড়ে যাওয়া অংশে নারী ফুটবল দলের কৃতি খেলোয়াড় সাজেদা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও রোজিনাদের বিভিন্ন খেলার সার্টিফিকেট ও মেডেল ছিলো বলে জানিয়েছেন এ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রতন মিয়া। তিনি জানান, আগামীকাল (বুধবার) ধোবাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে।

রতন মিয়া জানান, চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হয়েছে। ফলে এখন বিদ্যালয় বন্ধ। আগামী ১৩ জুন বিদ্যালয় খোলা হবে। আমাদের শিক্ষকরাও নিজেদের বাড়িতে চলে গেছেন। তবে গণিত এবং ইংরেজি শিক্ষকরা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নিচ্ছেন। এদিন দু’শিক্ষক সকালে সেই ক্লাস নিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন অফিসের তালা ভাঙা এবং ভেতরে আগুনে ধোঁয়া উড়ছে।

তিনি জানান, দুর্বৃত্তরা আলমারিতে থাকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সনদপত্র, মেয়েদের খেলার সার্টিফিকেট, মেডেল, রেজুলেশন বই, কারিগরি শাখার কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া একটি পেনড্রাইভও নিয়ে গেছে তারা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মালা রাণী জানান, বিদ্যালয়ের নারী ফুটবলারদের উপজেলা পর্যায়ে ও জেলা পর্যায়ে খেলার সনদপত্র ও মেডেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুমান ৪৮ টির মতো মেডেলের মধ্যে ১৬ থেকে ১৭ টি মেডেল এবং ১৭ থেকে ১৮ টি সনদপত্র আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রোজিনা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সাজেদার সনদপত্র ও মেডেল ছিলো।

এ বিষয়ে ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহাম্মদ মোল্লা জানান, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বাংলাদেশের নারী ফুটবলের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। এ বিদ্যালয় থেকে মারিয়া মান্দা, সাজেদা, রোজিনা, তহুরা, সানজিদাসহ কমপক্ষে ১৩ জন ফুটবলার দাপটের সঙ্গেই জাতীয় দলে খেলছেন।