স্বামীকে মেরে স্ত্রীকে গণধর্ষণে ৬ জনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের দরগারচর গ্রামে গৃহবধূকে গণধর্ষণের দায়ে ৬ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেকের এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ফজলে খোদা মোঃ নাজির এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহজাদপুর উপজেলার দরগারচর গ্রামের তোতা, আলহাজ্ব, আলমগীর, বুলবুল, জুয়েল রানা ও রতন।

সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল হামিদ লাভলু এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের দরগারচর গ্রামের ফরিদ সরকারের স্ত্রী মোছাঃ নাজমা খাতুন (২৫) তার বাবা-মায়ের সাথে একই এলাকার মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে অনুষ্ঠিত ওরশে ওয়াজ শুনতে যান। রাতে ওরশ শেষে বাড়ি ফেরার সময় ভুল করে ঘরের চাবি তার বাবার কাছে রেখে আসেন। পরে তিনি তার স্বামী ফরিদকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়িতে চাবি আনতে যাচ্ছিলেন।

এ সময় তোতা, আলহাজ্ব, আলমগীর, বুলবুল, জুয়েল রানা ও রতন মিলে দু’জনকে আটকের পর স্বামী ফরিদকে মারপিট স্ত্রী নাজমাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। ফরিদ গ্রামে গিয়ে বিষয়টি সবাইকে জানালে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে নাজমাকে উদ্ধার করে। সেই সাথে ধর্ষক তোতা ও আলহাজ্বকে আটক করে।

এ ঘটনায় নাজমা খাতুন নিজেই বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গ্রামবাসীর সহায়তায় বাকী আসামিদেরও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শুনানী শেষে বিচারক এদিন এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ লাভলু ও একই আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ার পারভেজ লিমন। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট গোলাম হায়দার।