পরীক্ষার হলে মেসেঞ্জারের চ্যাট গ্রুপে উত্তর আদান-প্রদান করে তারা!

টাংগাইলের গোপালপুর উপজেলার কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে চলতি আলীম পরীক্ষায় জিডিটাল পদ্ধতিতে অসদুপায় অবলম্বন এবং দুঃষ্কর্মের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২ কক্ষ পরিদর্শক ও ১ হাউজ টিউটরসহ ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। শনিবার (১১ মে) উচ্চতর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বিকাস বিশ্বাস গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করেন।

পরে অভিযুক্ত কক্ষ পর্যবেক্ষক আব্দুল মান্নান ও সাইফুদ্দীনকে সাতদিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, হাউজ টিউটর সোহেল রানা এবং সহযোগি গোপালপুর কামিল মাদরাসার ফাজিল শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আবু বকরকে দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এছাড়া পরীক্ষার্থী মোখলেছুর রহমান, বদরুল আলম, আব্দুল জলিল ও শামীম হাসানের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার না থাকায় তাদেরকে মুচলিকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। তবে সকলকেই পরীক্ষা থেকে বহিস্কার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিকাশ বিশ্বাস জানান, ওই চার পরীক্ষার্থী তাদের হাউস টিউটর সোহেল রানার সহযোগিতায় ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি চ্যাটরুম তৈরি করে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার হল থেকে এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা গ্রুপ চ্যাট গ্রুপের এডমিন সোহেল রানার নিকট প্রেরণ করে। পরে ওই হাউজ টিউটর প্রশ্নের সমাধান করে তা মেসেঞ্জারের ঐ চ্যাট গ্রুপে প্রেরণ করেন। আর চার পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন থেকে তা দেখে দেখে উত্তরপত্রে লিখছিলো।

অপরদিকে, পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক এ অসদুপায় অবলম্বনে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছিলেন। সাজাপ্রাপ্তরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট তাদের দোষ স্বীকার করেন। পরে সাজাপ্রাপ্ত সকলকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।