‘ওদের ঋণতো বাবা রক্ত দিয়ে দিলেও শেষ হবেনা’

গত দুই দিনে এক বৃদ্ধার হাতে চক এবং স্লেটে লেখা “ধন্যবাদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ” সম্বলিত ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। ছবিটি ফরিদপুর সদরের ৪ নং ওয়ার্ডর্ (পূর্বের অবিভক্ত ২ নং ওয়ার্ড) এর হতভাগ্য ইয়াকুব আলীর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিটির ব্যক্তি ইয়াকুব আলী এক সময় উক্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। বিশেষ করে ৯১ সালের পর থেকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। নিজের জমি জমা বন্ধক রেখে দলের জন্য কাজ করেছেন।২০০৯ সালের নতুন কাউন্সিলের পর তাকে আর পদে রাখা হয়নি।

সম্প্রতি ২০১৫ সালে তিনি রাস্তা পারাপারের সময় মাইক্রোবাসের সাথে মারাত্মক ভাবে আহত হন। ইয়াকুব আলীর দুটি পায়েরই ফিমার ভেঙে যায়। সেখান থেকেই তার ভাগ্য বিড়ম্বনা শুরু।

৪ বছর ধরে চলে আসা চিকিৎসা খরচে জমিজমা সব বিক্রি করেছেন। বারবার স্থানীয় নেতাকর্মীর কাছে হাত পেতেও কোন লাভ হয়নি। দ্বারে দ্বারে ঘুড়েছেন একটা প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য।কিন্তু কেউ কোন সাড়া দেন নি। বা দিতে চাইলেও সে কথা রাখেন নি।

সম্প্রতি তারমত ত্যাগী আওয়ামী কর্মী সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী। তিনি ইয়াকুব আলীর তড়িৎ সাহায্যের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা শেখ স্বাধীন মোঃ শাহেদকে। শেখ শাহেদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইয়াকুব আলীকে সুবর্ণ নাগরিকের তালিকাভুক্ত করা হয়।পাশাপাশি তাকে দুটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার মাধ্যমে দুটি আলাদা ভাতার ব্যবস্থা করে দেয় ছাত্রলীগ। ২০১৯-২০ অর্থ বছর থেকে তিনি সরকারী প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্ত হবেন।তার একমাত্র ছেলের ব্যবসায়ও সহযোগিতা করা হয়েছে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে।

এ প্রসঙ্গে ইয়াকুব আলি বলেন, “ছাত্রলীগের কল্যাণে জীবনের শেষ দিন গুলি অন্তত না খেয়ে মরতে হবেনা।ওদের ঋণতো বাবা রক্ত দিয়ে ধন্যবাদ দিলেও শেষ হবেনা।”

ইয়াকুব আলীর সহধর্মিণীর চোঁখে সমস্যা বহুদিন ধরে।সম্প্রতি তার চোঁখ পরীক্ষা করা হয়েছে। তার চোখেরও চিকিৎসা করা হবে ছাত্রলীগের সৌজন্য,জানাচ্ছিলেন এক সময়ের নিবেদিত প্রাণ কর্মী ইয়াকুব আলী।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি