একে একে বিএনপিকে একা ছেড়ে চলে যাচ্ছে সবাই

জোটকে না জানিয়ে চার এমপির শপথ গ্রহণ করার কারণেই ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি জোট ছেড়েছে। এদিকে পার্থের পর এবার কর্নেল অলি আহমেদ ২০ দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

আজ বুধবার ২০ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানকে টেলিফোন করে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তবে আন্দালিব রহমান পার্থর মতো তিনি লিখিত চিঠি দিয়ে ২০ দল পরিত্যাগ করেননি। বরং তিনি নজরুল ইসলাম খানকে টেলিফোন করে বলেছেন যে, বিএনপি যেভাবে নতজানু রাজনীতি করছে এবং যেভাবে ২০ দলকে প্রতারিত করে শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে সেটা ২০ দলের আদর্শ এবং নীতি সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এজন্যই তিনি ২০ দল করার প্রয়োজন মনে করছেন না।

একাধিক সূত্রগুলো বলছে যে, দলের মধ্যে একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল যে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা কেউ শপথ নেবে না, সংসদে যাবে না। কিন্তু যখন এই শপথ গ্রহণ শুরু হলো তখন ২০ দলের মধ্যেও অস্থিরতা শুরু হয়েছিল। সেই অস্থিরতার জের ধরে প্রথমে আন্দালিব রহমান পার্থ ২০ দল ছাড়ার ঘোষণা দেন, এখন কর্নেল অলি আহমেদও ২০ দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন।

জোটের শরিক দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান হুমকি দিয়েছেন, ২৩ মে’র মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট না ছাড়লে ২০ দলে থাকব না।

নানা কারণে বিএনপির ওপর বিরক্ত জোটের শরিক দল এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, খেলাফত মজলিশসহ অন্য দলগুলো। শিগগিরই বিএনপি কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নিলে ২০-দলীয় জোটে বিদ্রোহের শঙ্কা রয়েছে। এতে বিএনপিকে সবাই ছেড়ে চলে যেতে পারে বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জোটের নেতাদের মধ্যে মান অভিমান বা কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। খুব শিগগিরই জোটের বৈঠক হবে আশা করছি। সব ভুল দূর হবে।’

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের চার এমপির শপথকে ঘিরে দলের ভিতরেই সংকটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়ায়, যাতে দল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেকটা বাধ্য হয়েই চার এমপির শপথে রাজি হন। তবে দলের ভিতরকার সংকট এখনো কাটেনি। এসব কারণে ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো বৈঠকও করতে পারেনি দলটি। এমনকি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীয় ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও চার এমপির শপথের বিষয়ে জানতেন না।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ২০-দলীয় জোটে চরম সংকট চলছে। শরিক দলের নেতাদের অভিযোগ, জোটের বৈঠকে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। মিটিং হয় নামে মাত্র। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর সব সিদ্ধান্ত হয় সেখানেই। সবকিছুতেই ঐক্যফ্রন্টকে অতিমাত্রায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো কর্মসূচিও জোটের বৈঠকে হয় না। অথচ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জোটকে সামনে চায় বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের মধ্যে কখনো কখনো মতের বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু এটা খুবই সাময়িক। এটা আবার ঠিক হয়ে যাবে। যারা ২০ দলে আছেন তাদের কেউ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের বিরুদ্ধে না। দেশ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে ২০ দলের সবাই এক।