প্রকৃত কনটেন্টগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে ফেসবুক

নিম্নমানের ভিডিওর জন্য এখন ফেসবুকের সমালোচনা হচ্ছে। তাই ব্যবহারকারী ফেসবুকে কোন ভিডিও কীভাবে দেখবেন, সে নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এ–সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রকৃত কনটেন্টগুলোকে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে ফেসবুক। এ ছাড়া যেসব ভিডিও মানুষ বেশিক্ষণ দেখে এবং যে ভিডিও বারবার দেখা হয়, ফেসবুকে সে ভিডিওগুলো বেশি গুরুত্ব পাবে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা উচ্চ মানসম্পন্ন ভিডিওকে প্রাধান্য দিতে চায়। এ ভিডিওগুলোকে ফিচার আকারে প্রকাশ করবে তারা। যে ভিডিওগুলো অন্য ভিডিও থেকে কিছুটা সম্পাদনা করে তৈরি করা বা ভিডিওর মান খারাপ, সেগুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ফেসবুকের এ সিদ্ধান্তের ফলে অনেক পেজ ও ভিডিওর ওপর প্রভাব পড়বে। যারা বিভিন্ন ভিডিও নিয়ে মিম বানিয়ে তা থেকে সুবিধা পাচ্ছেন, তা বন্ধ হয়ে যাবে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেজে ভিডিও পোস্ট করে তা থেকে সুবিধা নিতে অনেকেই নানা গ্রুপে পোস্ট করেন। অনেক পেজের মালিককে অর্থ দিয়ে এসব ভিডিও পোস্ট করা হয়। ফেসবুক এ ধরনের সুযোগ রাখতে চায় না। যেসব পেজ থেকে ভিডিও শেয়ার করে সুবিধা নেওয়ার মতো কাজগুলো করা হয়, সেসব ভিডিওর ভিউ কমিয়ে দেওয়া হবে। এর বদলে যেসব ভিডিও মানুষ দেখে বেশি ও যেগুলোর ভক্ত বেশি, সেগুলোকে পুরস্কৃত করবে।

এর আগে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ভিডিও নির্মাতাদের কমপক্ষে এক মিনিট দেখা হয়—এমন ভিডিও তৈরির জন্য উৎসাহ দিচ্ছিল। ভবিষ্যতে যেসব ভিডিওর দর্শক কমপক্ষে তিন মিনিট পর্যন্ত থাকে, সে ভিডিওর প্রতি গুরুত্ব দেবে। এ ছাড়া যে ভিডিওগুলো প্রতি সপ্তাহে মানুষ ঘুরে ফিরে দেখে, সেগুলো পুরস্কার পাবে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভালো মানের ভিডিও নির্মাতাদের আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাদের এ ব্যবস্থা।

তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়া ফেসবুকের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ‘ফেসবুক ওয়াচ’কে আরও উন্নত করতে ফেসবুক এ পরিবর্তন আনছে। ফেসবুকের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ইউটিউব ছাড়াও উঠে আসছে অ্যাপল টিভি প্লাস, রকু চ্যানেল, আমাজন আইএমডিবি।

ফেসবুক ওয়াচ এখন প্রিমিয়াম কনটেন্ট তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফেসবুককে আটকাতে ইউটিউবের পক্ষ থেকেও নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। অনেক প্রকৃত কনটেন্ট বিনা মূল্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। এখন ফেসবুককে টিকতে হলে আরও উন্নত ও জনবান্ধব ভিডিও তৈরির বিকল্প নেই। মানসম্মত ভিডিওকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি এরই অংশ।