পুরো রমজান মাস অব্যাহত থাকবে তাপপ্রবাহ!

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পুরো মে মাস এ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়াও এ সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এরইমধ্যে রমজান শুরু হওয়ায় রমজানের মাসজুড়ে ভ্যাঁপসা গরমে কাটবে। গরমের কারণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে ২টি নিম্নচাপ। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এছাড়া দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২-৩ দিন মাঝারি বা তীব্র বজ ঝড়সহ কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। অন্যত্র ৩-৪ দিন হালকা/মাঝারি বজ ঝড়সহ কালবৈশাখী বয়ে যাবে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষকে গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে। শষা, তরমুজ, ডাব, সরবত ও কোমল পানীয় বিক্রির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে অসুখ-বিসুখ।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাহরি ও ইফতারে বেশি বেশি পানি পান, স্যালাইন ও লেবুর শরবত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক সপ্তাহে গরমের পরিমাণ বাড়বে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। অধিক জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে বাড়বে গরমের অনুভূতি। দু’একদিনের মধ্যে ফের শুরু হতে পারে তাপপ্রবাহ। আর এই সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজানের মাস।

তারা জানায়, মে মাস পুরোটা কাটবে অস্বস্তিকর গরমে। এ মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে। অন্যত্র ২-১টি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ায় তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও খুলনা অঞ্চলে বয়ে যাচ্ছে মৌসুমের প্রথম তাপ প্রবাহ। আবহাওয়া হাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু আগেই তাপমাত্রা ও বাতাসে আদ্রতার মাত্রা বেড়েছে। এ মাসজুড়ে তা অব্যাহত থাকবে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, মে মাসটি এমনিতেই গরম। এরপর চলতি বছর ‘এলনিনো মডোকি’ অবস্থা বিরাজ করছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ৩০ ডিগ্রি অবস্থানের এই বিশেষ অবস্থা যে বছর সৃষ্টি হয়, সেই বছর আমাদের অঞ্চলে অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা এবং শুকনো পরিস্থিতি থাকে।

তিনি বলেন, যখন ধরণী খুব উত্তপ্ত থাকে, তখন সাগরের পানিও উত্তপ্ত হয়। সাধারণত সাগরের পানির উষ্ণতা ২৭ ডিগ্রি পার হলে তা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির উপযোগী হয়। সে কারণে এ মাসে একদিকে যেমন ব্যাপক গরম থাকতে পারে, আরেকদিকে ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবেলা করা লাগতে পারে। যদিও অতীত রেকর্ড বলছে, প্রতিমাসে সাগর ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে না। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক কিছুই স্বাভাবিকের বাইরে ঘটছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন তুলনামূলক সহনীয় থাকবে প্রকৃতি। কিন্তু এদিনও এপ্রিলের শেষ দুই সপ্তাহের মতো খুব উষ্ণতা অনুভূত হয়েছে।

অনেকেই বেশিক্ষণ বাইরে কাটাতে পারেননি। এদিন ঢাকায় ৩৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মোংলায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কোথাও ৩২ ডিগ্রির নিচে ছিল না। ঢাকায় সন্ধ্যায় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৬১ শতাংশ।

বিএমডি বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলে তুলনামূলক উত্তপ্ত ছিল। এ মাসে দেশে গড় বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ১২৭ মিলিমিটার। কিন্তু এ মাসে বৃষ্টি হয়েছে ১০১ মিলিমিটার। ২০ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাতের বিচ্যুতি ঘটেছে। যে কারণে এ মাসে মানুষকে গরমে পুড়তে হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাসের শেষে ২৫ এপ্রিল সাগরে ঘূর্ণিঝড় ফণীর উৎপত্তি ঘটে।

অপরদিকে এলনিনো পরিস্থিতি এবং স্বাভাবিক গরমের সময় হওয়া সত্ত্বেও মে মাসে অন্তত ১৭ দিন বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস করেছে বিএমডি।

মে মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি) এবং অন্যত্র এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৩৮ এর চেয়ে বেশি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।