পদ্মাসেতুর ১২তম স্প্যান বসানোর প্রক্রিয়া শুরু, ২ কিলোমিটার অংশ দৃশ্যমান

পদ্মাসেতুর ১২তম স্প্যান বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুপুরের মধ্যেই স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো হতে পারে। এর মাধ্যমেই সেতুর ২ কিলোমিটার অংশ দৃশ্যমান হবে। সোমবার (৬ মে) সকাল সোয়া ৯টার দিকে স্প্যানটি ক্রেনে তুলে পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে ২০ ও ২১ নম্বর পিয়ারের (পিলার) উপরে বসিয়ে দেয়া হবে নতুন স্প্যানটি।

এর আগে, চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সোমবার সকালে মাত্র এক ঘণ্টায় মাওয়া থেকে স্প্যানটি নদীর মাঝামাঝি পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর দুপুরের মধ্যেই স্প্যান বসিয়ে দিতে পারবেন তারা।

চলতি মাসে পদ্মাসেতুতে আরও দুটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে সেতুর অগ্রগতি ৮০ শতাংশে পৌঁছবে বলে মনে করছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মাস থেকে স্প্যান বসানো বেড়ে যাবে। মাসে ৩/৪ টি তারপরে প্রতি সপ্তাহে একটি করে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এমবিইসি সূত্র জানায়, গত ৩ মে নদীর ঠিক মাঝ বরাবর ২০ এবং ২১ নম্বর পিলারে স্প্যান ওঠানোর কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। দ্বাদশ স্প্যান বসানোর চারদিনের মাথায় আগামী ১০ মে ১৪ এবং ১৫ নম্বর পিলারে ১৩তম স্প্যান ওঠানো হবে। আর ৩০ মে ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারে অস্থায়ীভাবে আরেকটি স্প্যান রাখা হবে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল একাদশ স্প্যান বসানো হয়। স্প্যানটি বসানোর পর পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হয়েছে ১৬৫০ মিটার। চলতি মাসে তিনটিসহ পদ্মাসেতুতে ১৪টি স্প্যান বসানোর পর বাকি থাকবে ২৭টি স্প্যান। এদিকে পদ্মাসেতুতে ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৫০টির বেশি পাইল বসানো শেষ হয়েছে।

পদ্মাসেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২। এর মধ্যে ২৪টি পিলারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে বাকি আরও ১০টি পিলারের নির্মাণ শেষ হবে।